
বাংলাদেশ ও ইন্দোনেশিয়ার মধ্যে দ্বি-পাক্ষিক সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় ও বহুমুখী করতে ৫টি সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব দিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। জবাবে বাংলাদেশের সাথে দীর্ঘমেয়াদী কৌশলগত অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার তীব্র আগ্রহ প্রকাশ করেছেন সফররত ইন্দোনেশিয়ার উপ-পররাষ্ট্র মন্ত্রী আনিস মাত্তা।
মঙ্গলবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে দুই দেশের মধ্যে অনুষ্ঠিত এক গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে এসব বিষয়ে আলোচনা ও প্রস্তাবনা তুলে ধরা হয়।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর ৫টি বিশেষ প্রস্তাব:
১. ভিসা-অন-এরাইভাল: বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য ইন্দোনেশিয়ায় পুনরায় ‘ভিসা-অন-এরাইভাল’ সুবিধা চালু করা।
২. ওষুধ রপ্তানি: বাংলাদেশ থেকে আরও বেশি পরিমাণে ওষুধজাত পণ্য আমদানি করা।
৩. পাটজাত ব্যাগ সরবরাহ: পরিবেশবান্ধব প্যাকেজিং নিশ্চিত করতে জি-টু-জি (G2G) ভিত্তিতে বাংলাদেশ থেকে পাটের ব্যাগ কেনা।
৪. কৃষি পণ্যের বাজার: ইন্দোনেশিয়ার বাজারে বাংলাদেশের আলুর প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা।
৫. দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা: দুর্যোগ মোকাবিলায় দুই দেশের মধ্যে প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা বৃদ্ধি করা। (এ লক্ষ্যে বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে একটি খসড়া সমঝোতা স্মারকও হস্তান্তর করা হয়)।
বাণিজ্য ও আঞ্চলিক সহযোগিতার নতুন দিগন্ত:
বৈঠকে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, জ্বালানি, স্বাস্থ্য, শিক্ষা এবং টেকসই হালাল পণ্যের বাজার নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির সম্পর্ককে একটি সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারিত্বে উন্নীত করার আহ্বান জানান। পাশাপাশি আসিয়ান (ASEAN)-এর ‘সেক্টরাল ডায়ালগ পার্টনারশিপ’ এবং ‘আরসিইপি’ (RCEP)-তে বাংলাদেশের অন্তর্ভূক্তিতে ইন্দোনেশিয়ার সমর্থন চান।
রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনে ইন্দোনেশিয়ার ধারাবাহিক সমর্থন অব্যাহত থাকবে বলে বৈঠকে পুনর্ব্যক্ত করা হয়।
ইন্দোনেশিয়ার দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা ও উদ্যোগ:
বাংলাদেশের প্রস্তাবগুলোকে স্বাগত জানিয়ে ইন্দোনেশিয়ার উপ-পররাষ্ট্র মন্ত্রী আনিস মাত্তা আগামী ৫ থেকে ১০ বছরের জন্য যৌথ অগ্রাধিকারমূলক প্রকল্প গ্রহণের প্রস্তাব দেন। দুই দেশের জনগণের মধ্যে যোগাযোগ ও সফর সহজ করতে তিনি ঢাকা-জাকার্তা সরাসরি বিমান ফ্লাইট চালুর জোর দাবি জানান।
উল্লেখ্য, চার দিনের সরকারি সফরে বর্তমানে বাংলাদেশে অবস্থান করছেন ইন্দোনেশিয়ার উপ-পররাষ্ট্র মন্ত্রী আনিস মাত্তা।
অনলাইন ডেস্ক 
























