Dhaka ০৬:৫৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম
উরুর চোটে মাঠের বাইরে জোয়াও পেদ্রো ভূরুঙ্গামারীতে ৪ লাখ টাকার ভারতীয় মোবাইলসহ আন্তঃজেলা চোরাকারবারি চক্রের প্রধান গ্রেফতার ভোর রাতে গোবিপ্রবির বনলতা ও অপরাজিতা হলে চুরি: নিরাপত্তা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ শিক্ষার্থীদের সমুদ্রের প্রলয়ংকরী ঝড়ের নামকরণ যেভাবে হয়, আসছে যে ১০ নাম ছোটপর্দায় নতুন যাত্রায় অভিনেত্রী নূপুর আহসান, আসছে ৭টি নতুন প্রজেক্ট ৬৬ বছরের ইতিহাসে সেরা অঘটন দেখল বিশ্ব বগুড়ায় পুলিশ পরিচয়ে ১০২ ভরি সোনা ছিনতাই: ৪ জন গ্রেপ্তার, ৮৮ লাখ টাকা উদ্ধার টাইব্রেকারের স্নায়ুক্ষয়ী লড়াইয়ে সিশেলসকে হারিয়ে ফিফা অনূর্ধ্ব-১৫ বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে বাংলাদেশ অদক্ষ নয়, দক্ষ জনশক্তি রপ্তানি করাই সরকারের মূল লক্ষ্য: আরিফুল হক চৌধুরী গোপালগঞ্জে শিশু তালহা হত্যা মামলা: দুইজনের ফাঁসি, একজনের যাবজ্জীবন

কুমিল্লা থেকে ৪ জন স্কুল ছাত্রী নিখোঁজের রহস্য উদঘাটন এবং তাদের মোবইলসহ অন্যান্য আলামত উদ্ধার

গত ১২ অক্টোবর সকালে কুমিল্লা পুলিশ লাইন্স সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৫ম শ্রেণির শিক্ষার্থী মাইশা আকতার (১২), ঝুমুর (১২), সোনিয়া (১৩) এবং মাইশার ছোট বোন ৩য় শ্রেণির শিক্ষার্থী জান্নাত (০৮) তারা স্কুলে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাসা থেকে বের হলেও ক্লাসে উপস্থিত হয়নি। বিষয়টি বিকেলে স্কুল কর্তৃপক্ষের নজরে আসলে তারা উক্ত শিক্ষার্থীদের বিষয়ে প্রথমে কুমিল্লা জেলার পুলিশ সুপারকে জানান, ঘটনাটির গুরুত্ব বিবেচনায় পুলিশ সুপার এর নির্দেশে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও কোতোয়ালী থানা পুলিশ তাৎক্ষণিক অনুসন্ধানে নামে। থানা পুলিশ উক্ত শিক্ষার্থীদের পরিবারকে ডেকে বিষয়টি সম্পর্কে অবগত করলে তাদের পরিবার থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

জেলা গোয়েন্দা শাখা ও কোতোয়ালি থানা পুলিশ সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে এবং সারাদেশের সকল থানায় বিষয়টি অবহিত করে নিখোঁজ শিক্ষার্থীদের ছবি সহকারে বেতার বার্তা পাঠায়। অবশেষে সর্বাত্মক প্রচেষ্টায় ১২ অক্টোবর দিবাগত রাত অর্থাৎ ১৩/১০/২৬ আনুমানিক ০২:০০ ঘটিকায় সিলেট বিভাগের হবিগঞ্জ জেলার চুনারুঘাট থানা এলাকা থেকে চুনারুঘাট থানা পুলিশের সহায়তায় উক্ত চার শিক্ষার্থীকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়।

পরবর্তীতে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও কোতোয়ালী থানা পুলিশের সমন্বিত প্রচেষ্টায় শিক্ষার্থীদের নিজ হেফাজতে নিযে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার ও ব্যক্তিগত যোগাযোগের বিষয়ে বিভিন্ন তথ্য উঠে আসে। জিজ্ঞাসাবাদে শিক্ষার্থীরা জানায়, তারা পড়াশোনার প্রতি তেমন আগ্রহী ছিল না। তারা নিয়মিত মোবাইল ফোন ব্যবহার করে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অন্যদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করত এবং টিকটকে ভিডিও আপলোড করত।

জিজ্ঞাসাবাদে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, টিকটক ও অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারের মাধ্যমে মাইশা আক্তারের সঙ্গে আবু হুজাইফা, মারজান, হৃদয় ও জিসান; সোনিয়ার সঙ্গে সুজন ও মিনহাজ এবং ঝুমুরের সঙ্গে মোফাজ্জল ও শোয়েব নামের ছেলেদের সাথে পরিচয়, যোগাযোগ ও সখ্যতা গড়ে ওঠে। তবে, শিক্ষার্থীরা উল্লিখিত ছেলেদের সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পরিচিত হলেও তাদের প্রকৃত ঠিকানা সম্পর্কে অবগত ছিল না বলে জানায়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ভুল ধারণা ও ফ্যান্টাসিতে বিভ্রান্ত হয়ে তারা বাসা থেকে মূল্যবান জিনিসপত্র নিয়ে বের হয়ে কুমিল্লার বাহার মোবাইল মার্কেটে মাইশা তার পরিবারের ব্যবহৃত এন্ড্রয়েড মোবাইল ৪০০০ টাকায় বিক্রি করে টাকা নিয়ে তারা প্রথমে ঢাকা ও পরে হবিগঞ্জে চলে যায়।

তাদের পরিকল্পনা ছিল ঢাকায় গিয়ে নিজেরা উপার্জন করবে, স্বাধীনভাবে জীবন যাপন করবে এবং পরিচিত ছেলেদের সঙ্গে নতুন জীবন শুরু করবে। এই উদ্দেশ্যে তারা বাসা থেকে স্বর্ণালংকার ও মোবাইল ফোন সাথে নিয়ে বের হয়। ঢাকায় গিয়ে পরিকল্পনা সফল না হলে তারা ঐদিনেই শিক্ষার্থী ঝুমুরের দাদা বাড়ি হবিগঞ্জ জেলার চুনারুঘাট যাওযার সিদ্ধান্ত নেয়।

শিক্ষার্থী মাইশার বিক্রিত মোবাইল ফোন কুমিল্লা শহরস্থ বাহার মার্কেট থেকে অভিযান পরিচালনা করে উদ্ধার করা হয়েছে এবং যে ব্যক্তি উক্ত মোবাইলটি ক্রয় করেছে তাকে আটক করা হয়েছে। এছাড়াও শিক্ষার্থীদের নিকট থাকা স্বর্ণালংকার উদ্ধার করা হয়েছে। উক্ত ০৪ জন শিক্ষার্থীকে আদালতে উপস্থাপন করা হয়েছে। বিজ্ঞ আদালতের নির্দেশ মোতাবেক পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আলোচিত

উরুর চোটে মাঠের বাইরে জোয়াও পেদ্রো