
জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নবাবের ছেলে এবং জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোশায়ের হোসেনের স্ত্রী লুবানা ইয়াসমিন হিয়ার বিরুদ্ধে ১৮ ভরি স্বর্ণ চুরির চাঞ্চল্যকর মামলা হয়েছে। এই ঘটনায় রাজধানী ঢাকাসহ স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) ইসলামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান এবং বনানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সালাউদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। অভিযুক্ত লুবানা ইয়াসমিন হিয়া ঢাকার একটি বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে রসায়ন বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী।
বনানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সালাউদ্দিন জানান, গত ১০ অক্টোবর সেনা কর্মকর্তা মেজর রায়হানের স্ত্রী মোবাশ্বিরা রায়হান লিনা বাদী হয়ে বনানী থানায় এই মামলাটি দায়ের করেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ৯ অক্টোবর ঢাকা সেনানিবাসের বনানী এলাকার সরকারি কোয়ার্টারে আত্মীয় পরিচয়ে হিয়াকে বাসায় রেখে নিজেদের সন্তানকে চিকিৎসকের কাছে নিয়েছিলেন মেজর রায়হান ও তার স্ত্রী। পরে তারা বাসায় ফিরে দেখেন হিয়া চলে গেছেন এবং ঘরের আলমারিতে থাকা ১৮ ভরি স্বর্ণের গহনা উধাও। খোঁজাখুঁজি করে গহনা না পেয়ে থানায় মামলা করেন গৃহকর্ত্রী। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত হিয়া গা ঢাকা দিয়েছেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।
ঘটনাটি নিয়ে অভিযুক্তের স্বামী ও পরিবারের পক্ষ থেকে ভিন্ন ভিন্ন মন্তব্য পাওয়া গেছে।
স্বামী মোশায়ের হোসেন মিঠুন (জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক) জানান, এ বিষয়ে তার বলার কিছু নেই এবং তিনি বর্তমানে আলাদা (সেপারেশন) থাকছেন।
শ্বশুর নুরুল ইসলাম নবাব (ইসলামপুর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক) জানান, তিনি ছেলের বউয়ের পড়াশোনা ও খাওয়ার খরচ দিলেও ব্যক্তিগত বা পারিবারিক বিষয়গুলোর দায় তার নয়। এ বিষয়ে মেয়ের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন তিনি।
বাবা হাফিজুর রহমান (উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক) এই মামলাটিকে সম্পূর্ণ মিথ্যা, ষড়যন্ত্রমূলক ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন। তিনি জানান, তার মেয়ে বর্তমানে জামিনে রয়েছেন এবং বিষয়টি স্থানীয় সংসদ সদস্যও অবগত আছেন। আত্মীয়স্বজনদের মধ্যকার পারিবারিক দ্বন্দ্বের জেরে এই মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করে তারা বিষয়টি পারিবারিকভাবে মীমাংসা করবেন বলে জানিয়েছেন।
অনলাইন ডেস্ক 























