
ব্যস্ততার নগরীতে যান্ত্রিকতার ভিড়েও বেঁচে থাকে কিছু মানবিক অনুভূতি। নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার ভুলতা ফ্লাইওভারের নিচে গেলেই মিলবে এমন এক চিত্র, যেখানে ধনী-গরিবের কোনো ভেদাভেদ নেই। একই পঙক্তিতে বসে রিকশাচালক, দিনমজুর, গৃহকর্মী ও পথচারীরা একসঙ্গে খাচ্ছেন পরম তৃপ্তিতে।
শাহবাজ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে পরিচালিত ‘মানবতার দস্তরখানা’ নামের এই মানবিক কার্যক্রমটি এখন এলাকার অসহায় মানুষের জন্য এক বড় ভরসার নাম। গত সাড়ে তিন বছর ধরে নিয়মিতভাবে ক্ষুধার্ত মানুষের মুখে অন্ন তুলে দিচ্ছে এই সংগঠনটি।
আয়োজকদের সূত্রে জানা যায়, প্রায় সাড়ে তিন বছর আগে মাত্র সপ্তাহে এক দিন খাবার বিতরণের মাধ্যমে এই মহৎ উদ্যোগের যাত্রা শুরু হয়েছিল। সাধারণ মানুষের অভূতপূর্ব সাড়া এবং দিন দিন চাহিদা বাড়ায় কার্যক্রমের পরিধি বাড়ানো হয়। বর্তমানে প্রতি সপ্তাহের শনিবার, সোমবার ও বুধবার নিয়মিতভাবে খাবার বিতরণ করা হচ্ছে। প্রতিদিন প্রায় ২০০ জন নিম্ন আয়ের মানুষ এই সেবার আওতায় আসছেন।
সংগঠনটির মূল শাখা ঢাকায় অবস্থিত, যেখানে শুক্রবার বাদে সপ্তাহের বাকি ছয় দিনই এই বিনামূল্যে খাবার বিতরণের কার্যক্রম চালু রয়েছে।
বর্তমান বাজারে জিনিসপত্রের চড়া দামে নিম্ন আয়ের মানুষের সংসার চালানো এক প্রকার যুদ্ধস্বরূপ। এই কঠিন বাস্তবতায় সপ্তাহে তিন দিন বিনামূল্যে পুষ্টিকর একবেলা খাবার পেয়ে দারুণ উপকৃত হচ্ছেন শ্রমজীবী মানুষ। খাবার খেতে আসা অনেকেই জানান, তাঁরা এই তিন দিনের অপেক্ষায় থাকেন। তাঁদের কষ্টার্জিত আয়ের একটি অংশ বেঁচে যাওয়ায় কিছুটা হলেও স্বস্তি মিলছে। স্থানীয় তরুণ স্বেচ্ছাসেবীরা সম্পূর্ণ বিনা পারিশ্রমিকে খাবার পরিবেশন ও বিতরণের কাজ করে যাচ্ছেন, যাঁদের একমাত্র লক্ষ্য ক্ষুধার্ত মানুষের মুখে একটু হাসি ফোটানো।
শাহবাজ ফাউন্ডেশনের পরিচালক মোহাম্মদ ইয়ামিন মিয়া জানান, মানুষের কাছ থেকে তাঁরা দারুণ সাড়া পাচ্ছেন। অসহায় ও ক্ষুধার্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোই তাঁদের মূল ব্রত। মানুষের ভালোবাসায় অনুপ্রাণিত হয়ে ভবিষ্যতে এই কার্যক্রমের পরিধি আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে তাঁদের, যাতে আরও বেশি মানুষের কাছে নিয়মিত বিনামূল্যে খাবার পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হয়।
অনলাইন ডেস্ক 























