
কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলা বিএনপির সভাপতি জাহিদুল আলম জাহাঙ্গীর হত্যা মামলাটি মোড় নিয়েছে এক নাটকীয় দিকে। হত্যাকাণ্ডের সময় ঘটনাস্থল থেকে হাতেনাতে আটক হওয়া এক ভাড়াটে খুনি ও নিহতের স্ত্রীর মধ্যকার প্রায় সাড়ে নয় মিনিটের একটি ফোনালাপ প্রকাশ্যে আসার পর নতুন করে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ওই ফোনালাপে হত্যাকাণ্ডের পেছনে পারিবারিক বিরোধ এবং নতুন ষড়যন্ত্রের চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।
কারাবন্দি থাকা আটক ওই ভাড়াটে খুনির নাম মো. হেলাল (২৫)। তিনি বরগুনা জেলার বামনা উপজেলার চালিতাবুনিয়া এলাকার মৃত সুলতানের ছেলে।
ফোনালাপে হেলাল দাবি করেন, জাহাঙ্গীরকে মেরে ফেলা তাদের মূল উদ্দেশ্য ছিল না। টাকার লোভে পড়ে তারা এ কাজে জাড়িয়েছিলেন। নিহতের ছোট ভাই আলমগীর শিকদার তাদের ভাড়া করেছিলেন জানিয়ে হেলাল ফোনালাপে বলেন, আলমগীর শিকদার তাদের নির্দেশ দিয়েছিলেন—”যেভাবেই হোক তার (জাহাঙ্গীর) একটা হাত কেটে ফেলতে হবে, এতে যদি সে মারা যায় তবুও।”
হেলাল আরও অভিযোগ করেন, “খোকা ভাইয়ের” মাধ্যমে আলমগীরের সঙ্গে তাদের যোগাযোগ হয়েছিল। জেলে আসার পর খোকা ভাই তাদের কেন আলমগীরের নাম বলতে গেল তা নিয়ে তীব্র গালাগাল করেছেন এবং জামিন করানোর কথা বলে আলমগীরের নাম গোপন রাখতে হুমকি দিয়েছেন। এছাড়া তাকে দিয়ে জবানবন্দি দেওয়ানোর ক্ষেত্রেও চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে বলে ফোনালাপে উল্লেখ করেন হেলাল।
ফোনালাপের সত্যতা নিশ্চিত করে নিহতের স্ত্রী তাসলিমা আক্তার চৌধুরী জানান, জেল থেকে এক ব্যক্তির মাধ্যমে তার সঙ্গে যোগাযোগ করে এই ভাড়াটে খুনি। ফোনালাপে হেলাল তাকে সম্পূর্ণ ঘটনা ও আলমগীরের জড়িত থাকার বিষয়টি খুলে বলেন।
তাসলিমা আক্তার বলেন, “আলমগীর যে এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে, তা আমরা শুরু থেকেই সন্দেহ করে আসছি। আমরা এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সঠিক বিচার চাই।” তিনি জানান, প্রায় ১০-১১ দিন আগে ওই বন্দি তাকে ফোন করেছিলেন। এছাড়া আসামিদের ফাঁসি ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে আজ শনিবার মিঠামইনবাসীর উদ্যোগে একটি বিক্ষোভ মিছিলেরও ডাক দেওয়া হয়েছে।
এদিকে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও ষড়যন্ত্রমূলক বলে দাবি করেছেন নিহতের ছোট ভাই আলমগীর শিকদার। বর্তমানে সুইজারল্যান্ডে অবস্থানরত আলমগীর মোবাইল ফোনে বলেন, “যেসকল অভিযোগ তোলা হচ্ছে তার কোনো ভিত্তি নেই। আমি জড়িত থাকলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এতদিন ধরে ধরল কেন? আমি এখন দেশের বাইরে আছি, খুব শীঘ্রই দেশে ফিরে সংবাদ সম্মেলন করব।”
তিনি আরও দাবি করেন, যে ছেলে ফোনালাপে কথা বলেছে সে তো তার নাম নেয়নি, বরং খোকার নাম নিয়েছে। খোকা বলুক যে তিনি এর সাথে জড়িত কি না। তার ভাইয়ের স্ত্রী আওয়ামী লীগ পরিবারের সন্তান হওয়ায় এমন অপপ্রচার চালাচ্ছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
স্থানীয় সূত্র জানায়, নিহত জাহাঙ্গীর ও তার ছোট ভাই আলমগীর শিকদারের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন বিষয়ে মতবিরোধ ও পারিবারিক দ্বন্দ্ব চলে আসছিল।
গত ১৫ জুলাই রাতে নিজ বাড়ির সামনে নির্মমভাবে খুন হন মিঠামইন উপজেলা বিএনপির সভাপতি জাহিদুল আলম জাহাঙ্গীর। এ ঘটনায় ১৮ জুলাই নিহতের স্ত্রী তাসলিমা আক্তার চৌধুরী বাদী হয়ে মিঠামইন থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
মিথামইন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনোয়ার মোহাম্মদ জানান, চাঞ্চল্যকর এই হত্যা মামলায় এখন পর্যন্ত ১৫ জনকে আটক করা হয়েছে এবং মামলাটির তদন্ত বর্তমানে ডিবিতে হস্তান্তর করা হয়েছে।
অন্যদিকে, অষ্টগ্রাম সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মো. দিদারুল ইসলাম বলেন, “ফোনালাপের বিষয়টি অন্যের মাধ্যমে শুনেছি, তবে এখনো অডিও রেকর্ডটি শোনা হয়নি। ডিবির মামলার তদন্ত কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
অনলাইন ডেস্ক 

























