
আইনশৃঙ্খলা রক্ষার স্বার্থে সরকারের অনুমতি সাপেক্ষে পুলিশ ‘ক্রসফায়ার’ বা বিচারবহির্ভূত হত্যা চালাতে পারে—পুলিশ মহাপরিদর্শকের (আইজিপি) এমন মন্তব্যের তীব্র নিন্দা ও গভীর উদ্বেগ জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। সংস্থাটি একে সংবিধান ও আইনের শাসনের প্রতি চরম অবজ্ঞা এবং বিচারবহির্ভূত হত্যাকে বৈধতা দেওয়ার একটি বিপজ্জনক অপচেষ্টা হিসেবে অভিহিত করেছে।
সোমবার বিকেলে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, অপরাধ দমনে ব্যর্থতা ঢাকতে ক্রসফায়ারকে হাতিয়ার বানানো পুলিশের প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতা ও পেশাগত দেউলিয়াত্বের পরিচায়ক। সংবিধানের ৩১ ও ৩২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী কোনো নাগরিকের জীবন ও ব্যক্তিস্বাধীনতার অধিকার কেড়ে নেওয়ার একচ্ছত্র বা নির্বাহী ক্ষমতা কারো নেই। অতীতে মেজর সিনহা হত্যা, টেকনাফের একরামুল হকের মৃত্যু কিংবা নারায়ণগঞ্জের চাঞ্চল্যকর সাত খুনের মতো বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের ভয়ংকর পরিণতি স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি স্পষ্ট করেন যে, পুলিশের মূল দায়িত্ব হলো পেশাদারিত্বের সাথে তদন্ত করে অপরাধীকে আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো, জীবন কেড়ে নেওয়া নয়।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, এর আগে আইনমন্ত্রী দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে জানিয়েছিলেন যে সরকার সন্ত্রাস দমনে কোনোভাবেই ক্রসফায়ারের পথে হাঁটবে না। এমন স্পষ্ট সরকারি নীতির পরেও আইজিপির এ ধরনের বক্তব্য সরকারের সামগ্রিক অবস্থানের সঙ্গে সম্পূর্ণ সাংঘর্ষিক। এছাড়া, সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে পুলিশের ঢালাও অভিযোগের তীব্র সমালোচনা করে টিআইবি উল্লেখ করে যে, মুক্ত গণমাধ্যমের স্বাধীন কণ্ঠরোধ করার চেষ্টা না করে সুনির্দিষ্ট প্রমাণের ভিত্তিতে আইনানুগ পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।
আইজিপির এই অপরিণামদর্শী ও বেপরোয়া বক্তব্যের আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা।
প্রকাশ্যে নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়ে বক্তব্যটি অবিলম্বে প্রত্যাহার।
দাবি মানা না হওয়া পর্যন্ত তার প্রশাসনিক জবাবদিহি নিশ্চিত করতে পদ থেকে অপসারণ।
অনলাইন ডেস্ক 
























