
কানাডীয় প্রযোজনার ইতিহাসে নেটফ্লিক্সে নতুন মাইলফলক গড়েছে ‘বিলো’। মুক্তির প্রথম সপ্তাহে বিশ্বব্যাপী ১ কোটি ৭০ লাখ ভিউ নিয়ে ইংরেজি ভাষার সিরিজের তালিকার শীর্ষে পৌঁছানোর পর, দ্বিতীয় সপ্তাহে এর দর্শকসংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ২ কোটি ১২ লাখে। নেটফ্লিক্সের তথ্য অনুযায়ী, ৯২টি দেশের সেরা দশের মধ্যে জায়গা করে নেওয়া এই সিরিজটি ৫৩টি দেশে প্রথম স্থান দখল করেছিল। বাংলাদেশেও মুক্তির পরপরই দর্শকদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসে এবং বর্তমানে এটি নেটফ্লিক্সের জনপ্রিয়তার তালিকার শীর্ষে রয়েছে।
কানাডার নিউফাউন্ডল্যান্ডের প্রত্যন্ত উপকূলীয় শহর স্নুকস আর্মের এক জেলে ক্যালভিন পেনি—এই সিরিজের মূল কেন্দ্রবিন্দু। চরিত্রে অভিনয় করেছেন হলিউডের জনপ্রিয় অভিনেতা জশ হার্টনেট। শৈশবের পারিবারিক ট্রমা এবং জীবিকার নানা সংকটের সঙ্গে লড়তে থাকা ক্যালভিনের জীবনে নতুন বিপদ ডেকে আনে সমুদ্রের গভীর থেকে উঠে আসা এক অজানা প্রাণী।
তবে সিরিজটিকে কেবল প্রচলিত কোনো দানবকেন্দ্রিক গল্প বলা চলে না। এর গভীরে রয়েছে—
জীবিকার সংকট: মাছের সরবরাহ কমে যাওয়ায় স্থানীয় মানুষের অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা।
শিকড়ের টান বনাম ক্ষতিপূরণ: বাপ-দাদার ভিটেমাটি ছেড়ে অন্যত্র চলে যাওয়ার দ্বন্দ্ব।
পরিবেশগত ও সামাজিক সংকট: জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এবং একটি বিচ্ছিন্ন জনপদের টিকে থাকার লড়াই।
রহস্যের সমাধানে ক্যালভিনের সঙ্গে যুক্ত হন সামুদ্রিক গবেষক ফন্ডা হাওয়ান্ডার (ম্যাকেঞ্জি ডেভিস) এবং তার ছেলে ওয়েড চরিত্রে থাকা ‘স্ট্রেঞ্জার থিংস’খ্যাত চার্লি হিটন।
মানবিক চরিত্র: ক্যালভিন কোনো অতিমানব বা সুপারহিরো নন; বরং নিজের দুর্বলতা, পারিবারিক দায়িত্ব ও ব্যর্থতার সঙ্গে লড়ে যাওয়া এক সাধারণ মানুষ।
অস্বস্তিকর ও বাস্তবধর্মী পরিবেশ: পাথুরে উপকূল, কুয়াশাচ্ছন্ন ধূসর আকাশ ও উত্তাল সমুদ্রের আবহ গল্পে একধরনের গা ছমছমে টানটান উত্তেজনা তৈরি করে।
সংক্ষিপ্ত কলেবর: দীর্ঘ মৌসুমের জটিলতা ছাড়াই মাত্র ছয় পর্বে একটি পরিপূর্ণ ও রহস্যঘেরা গল্প শেষ হওয়ায় দর্শকরা বেশ স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করছেন।
জশ হার্টনেটের প্রত্যাবর্তন: ‘ওপেনহেইমার’ ও ‘ট্র্যাপ’-এর পর জশ হার্টনেট এই সিরিজে এক ভিন্নধর্মী ও মানসিক দৃঢ়তাসম্পন্ন চরিত্রে অভিনয় করে দারুণ প্রশংসা কুড়িয়েছেন।
অভিজ্ঞ পরিচালনা ও চিত্রনাট্য: ‘দ্য আমব্রেলা একাডেমি’খ্যাত চিত্রনাট্যকার জেসি ম্যাককিওনের ভাবনায় সিরিজটি পরিচালনা করেছেন জেমি চাইল্ডস, হেলেন শেভার ও স্টিফেন ডান।
বাস্তবধর্মী চিত্রায়ণ: নিউফাউন্ডল্যান্ডের বিভিন্ন স্থানে ৭৫ দিন ধরে চলা এই শুটিংয়ে স্থানীয় জেলেদের ঐতিহ্য, বৈজ্ঞানিক পরামর্শ (সামুদ্রিক জীববিজ্ঞানী অ্যানি মার্সিয়ের) এবং টরন্টোভিত্তিক ‘মি. এক্স’-এর ভিজ্যুয়াল ইফেক্টস গল্পটিকে করে তুলেছে নিখুঁত ও বিশ্বাসযোগ্য।
রহস্য, পারিবারিক টানাপোড়েন এবং প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের আদিম সংগ্রামের এক অনবদ্য মিশ্রণ দেখতেই দর্শকেরা হুমড়ি খেয়ে পড়ছেন ‘বিলো’র পর্দার সামনে।
অনলাইন ডেস্ক 

























