
দীর্ঘ তিন বছর ধরে খাবার, পানি ও বিদ্যুৎহীন অবস্থায় অবরুদ্ধ থাকা ইউক্রেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর ওলেশকিতে অবশেষে শুরু হয়েছে সীমিত পরিসরের সাময়িক যুদ্ধবিরতি। বেঁচে থাকার তাগিদে বাগানের আগাছা সেদ্ধ করে খাওয়া এই চরম দুর্গত বাসিন্দাদের কাছে ত্রাণ পৌঁছানো এবং তাদের নিরাপদে সরিয়ে নিতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের হোয়াইট হাউসের তথ্য অনুযায়ী, মার্কিন ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পের বিশেষ কূটনৈতিক উদ্যোগে এই যুদ্ধবিরতির ব্যবস্থা করা হয়েছে। এর আগে গত আগস্টে তিনি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে একটি চিঠি পাঠিয়ে বিশ্বজুড়ে শিশু ও সাধারণ মানুষের সুরক্ষায় পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন। তারই ধারাবাহিকতায় এবার ওলেশকির মানবিক সংকট নিরসনে এই পদক্ষেপ এল।
ইউক্রেনের কর্মকর্তা ও রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় উভয় পক্ষই এই যুদ্ধবিরতি মেনে চলার কথা নিশ্চিত করেছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, শুক্রবার শহরটিতে ত্রাণ সরবরাহ ও বেসামরিক নাগরিকদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়ার কথা রয়েছে।
খেরসন অঞ্চলের সম্মুখসারির কাছাকাছি অবস্থিত ওলেশকি শহরটি ভৌগোলিকভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল একটি জায়গায় অবস্থিত। এর একপাশে দিনিপ্রো নদীর অপর পারে ইউক্রেনীয় বাহিনী এবং অন্যপাশে রুশ বাহিনীর নিয়ন্ত্রণ। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে যুদ্ধ শুরুর প্রথম দিকেই শহরটি দখল করে নেয় রাশিয়া।
যুদ্ধের আগে প্রায় ২৪ হাজার জনসংখ্যার এই শহরে বর্তমানে শিশুসহ প্রায় ছয় হাজার মানুষ অবরুদ্ধ রয়েছেন। গত তিন বছর ধরে সেখানে কোনো দোকানপাট খোলা নেই; বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানির সরবরাহ সম্পূর্ণ বন্ধ। শহর থেকে বের হওয়ার মূল রাস্তাগুলোতে স্থলমাইন বিছিয়ে রাখায় পায়ে হেঁটে পালিয়ে যাওয়ার পথও বন্ধ।
যুদ্ধবিরতির ঘোষণা বাসিন্দাদের মনে আশার সঞ্চার করলেও তাদের ভয় কাটছে না। দীর্ঘদিনের নিপীড়নের কারণে স্থানীয়দের অনেকের মনেই গভীর আস্থার সংকট রয়েছে। এক বাসিন্দা আক্ষেপ করে বলেছেন, “রাশিয়ার মানবিকতায় আমার বিশ্বাস নেই।”
এছাড়া সরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া চলাকালীন আবার গোলাগুলি শুরু হতে পারে কিংবা ইউক্রেনের প্রতি সমর্থনের সন্দেহ করে রুশ বাহিনী তাদের আটক ও নির্যাতন করতে পারে—এমন নানা আশঙ্কায় ভুগছেন সাধারণ মানুষ। অনেকে আবার বাড়িঘর ছেড়ে গেলে তা আর ফিরে না পাওয়ার ভয়েও আছেন। যোগাযোগের মাধ্যম সীমিত থাকায় এবং স্বাধীনভাবে পরিস্থিতি যাচাইয়ের সুযোগ না থাকায় সেখানকার সঠিক চিত্র পাওয়াও কঠিন হয়ে পড়েছে।
ওলেশকিতে সাময়িক বিরতি আসলেও ইউক্রেনের অন্যান্য প্রান্তে হামলা থামেনি। সোমবার সন্ধ্যায় রাজধানী কিয়েভে রুশ হামলায় একটি বিশ্ববিদ্যালয় ও সেতু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যাতে একজন নিহত ও ১৪ জন আহত হন। অন্যদিকে, রাশিয়ার ব্রিয়ানস্ক শহরে ইউক্রেনের ড্রোন হামলায়ও একজন নিহত ও ছয়জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
দীর্ঘ অবরুদ্ধ জীবন থেকে ওলেশকির সাধারণ মানুষ শেষ পর্যন্ত মুক্তি পাবেন কি না, তা সম্পূর্ণ নির্ভর করছে এই যুদ্ধবিরতি কতটুকু দীর্ঘস্থায়ী হয় এবং পরিকল্পিত মানবিক সহায়তা কার্যক্রম কতটা সফলভাবে বাস্তবায়িত হয় তার ওপর।
অনলাইন ডেস্ক 

























