
ইউরোপে তীব্র শীতের আগে জ্বালানি সংকট নিরসনে এক বড় কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক উদ্যোগ নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। প্রভাবশালী মার্কিন গণমাধ্যম ‘দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল’-এর এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে প্রকাশ পেয়েছে যে, ইউরোপীয় দেশগুলোতে ইউক্রেনের পাইপলাইন দিয়ে রুশ প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহ পুনরায় চালুর জোরালো চেষ্টা চালাচ্ছে ওয়াশিংটন।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার এবং মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ যৌথভাবে এই কৌশলগত প্রস্তাবটি তৈরি করেছেন। প্রস্তাবের মূল উদ্দেশ্য হলো—ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) বর্তমান নিষেধাজ্ঞা ও আইনি জটিলতা পাশ কাটিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে নিরবচ্ছিন্ন লেনদেন বজায় রাখা। এর জন্য একটি মার্কিন মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠানকে দায়িত্ব দেওয়ার পাশাপাশি আর্থিক স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশেষ এসক্রো অ্যাকাউন্ট ব্যবহারের পরিকল্পনা করা হয়েছে।
হোয়াইট হাউসের এই প্রস্তাব অনুযায়ী, ইউক্রেনের পাইপলাইনের মাধ্যমে বিক্রি হওয়া রুশ গ্যাসের অর্জিত অর্থ সরাসরি মস্কোর হাতে তুলে দেওয়া হবে না। বরং সেই অর্থ একটি নিরপেক্ষ তৃতীয় দেশের নিয়ন্ত্রণে থাকা এসক্রো অ্যাকাউন্টে জমা রাখা হবে। এর ফলে একদিকে যেমন ইউরোপের গ্যাস সংকট কাটবে, অন্যদিকে নিষেধাজ্ঞার শর্ত ভঙ্গ না করেও জ্বালানি তহবিল সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হবে।
ওয়াশিংটনের এই পরিকল্পনা শুধু ইউক্রেনের পাইপলাইনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং একসময়ে বন্ধ হয়ে যাওয়া আলোচিত ‘নর্ড স্ট্রিম’ গ্যাস পাইপলাইনটি পুনরায় সচল করার বিষয়টিও তাদের বিবেচনায় রয়েছে। মার্কিন প্রশাসনের বিশ্বাস, এই পরিকল্পনা পুরোপুরি বাস্তবায়িত হলে তা কেবল দীর্ঘমেয়াদী ইউক্রেন সংকটের সমাধানই করবে না, বরং যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের মিত্রদের সাথে রাশিয়ার চলমান ভূ-রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক উত্তেজনারও একটি স্থায়ী সমঝোতা ঘটাবে।
অনলাইন ডেস্ক 
























