
বুলগেরিয়ার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের দ্বিতীয় দফার প্রাথমিক ফলাফলে বড় ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছেন দেশটির ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ও প্রগ্রেসিভ বুলগেরিয়া পার্টির প্রার্থী ইলিয়ানা ইয়োতোভা। বিভিন্ন জরিপ সংস্থার প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, তিনি পেয়েছেন প্রায় ৫৮ শতাংশ ভোট। অন্যদিকে, তার প্রতিদ্বন্দ্বী সাবেক অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রী আন্দ্রে গিউরভ পেয়েছেন প্রায় ৩৮ শতাংশ ভোট। পরাজয় মেনে নিয়ে গিউরভ জানিয়েছেন, জনগণের এই সিদ্ধান্তকে তিনি শ্রদ্ধা জানান।
এই প্রাথমিক ফলাফল চূড়ান্ত হলে বুলগেরিয়ার ইতিহাসে প্রথম নারী প্রেসিডেন্ট হিসেবে ইতিহাস গড়বেন ৬২ বছর বয়সি ইয়োতোভা।
প্রধানমন্ত্রী রুমেন রাদেভের দল ‘প্রগ্রেসিভ বুলগেরিয়া পার্টি’-র সমর্থনে লড়ছেন ইয়োতোভা। গত এপ্রিলের সংসদ নির্বাচনে দলটি একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছিল। পর্যবেক্ষকদের মতে, ইয়োতোভার এই জয় ক্ষমতাসীন জোটের হাতে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা আরও কেন্দ্রীভূত করবে, যা অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের ভারসাম্যপূর্ণ নজরদারিতে কিছুটা প্রভাব ফেলতে পারে।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখার পাশাপাশি রাশিয়ার সঙ্গে ঐতিহ্যগত সম্পর্ক উন্নয়ন এবং দেশটির ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার পক্ষে জোরালো অবস্থান রয়েছে ইয়োতোভার। ইউক্রেন যুদ্ধ প্রসঙ্গে তিনি বরাবরই সামরিক সংঘাতে না গিয়ে কূটনৈতিক আলোচনা ও সমঝোতার মাধ্যমে শান্তি প্রতিষ্ঠার ওপর জোর দিয়েছেন। এছাড়া কৃষ্ণসাগর উপকূলবর্তী দেশগুলোকে নিয়ে একটি যৌথ নিরাপত্তা বৈঠকেরও প্রস্তাব দিয়েছেন তিনি।
বুলগেরিয়ায় প্রেসিডেন্ট পদটি মূলত আনুষ্ঠানিক হলেও এর রয়েছে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক ক্ষমতা। সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক হিসেবে প্রেসিডেন্ট সংসদে পাস হওয়া আইনে ভেটো প্রদান, আন্তর্জাতিক চুক্তি স্বাক্ষর এবং রাষ্ট্রদূত নিয়োগের ক্ষমতা রাখেন। সরাসরি জনগণের ভোটে পাঁচ বছরের জন্য নির্বাচিত হন দেশটির প্রেসিডেন্ট এবং একজন ব্যক্তি সর্বোচ্চ দুই মেয়াদে এই দায়িত্ব পালন করতে পারেন। সোমবারের মধ্যে নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক ফলাফল প্রকাশ হওয়ার কথা রয়েছে।
অনলাইন ডেস্ক 
























