
গণপূর্ত অধিদপ্তরের ইলেকট্রো-মেকানিক্যাল (ই/এম) বিভাগ-৬-এর নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ ইসকান্দার আলীর বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের এক চাঞ্চল্যকর চিত্র সামনে এসেছে। জালিয়াতি, ঘুষ বাণিজ্য, ভুয়া বিল-ভাউচারের মাধ্যমে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ এবং নামে-বেনামে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে অভিযুক্ত এই প্রকৌশলীকে ঘিরে ডিপার্টমেন্টজুড়ে তীব্র অসন্তোষ বিরাজ করছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, ভদ্রতার আড়ালে লুকিয়ে থাকা সৈয়দ ইসকান্দার আলী গণপূর্ত অধিদপ্তরে প্রকৌশলীদের মধ্যে বৈষম্য তৈরির নেপথ্য কারিগর। অভিযোগ রয়েছে, তিনি রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে নিজের রঙ বদলাতে সিদ্ধহস্ত। বিগত সরকারের আমলে কট্টর দলীয় প্রভাব বজায় রাখলেও অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এবং বর্তমান সময়ে বিভিন্ন প্রভাবশালী মহলের নাম ভাঙিয়ে তিনি বহাল তবিয়তে নিজের আখের গুছিয়ে নিচ্ছেন। সহকর্মীদের ডিঙিয়ে লোভনীয় পদগুলো কুক্ষিগত করা এবং নিজের স্বার্থ হাসিলের জন্য বিভাগীয় ক্ষমতাকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। তার খামখেয়ালিপনায় বহু ঠিকাদার ও সাধারণ প্রকৌশলীর পেশাগত জীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে বলে অভিযোগকারীদের দাবি।
সততার মুখোশ পরে পর্দার আড়ালে বেনামী ঠিকাদারি ব্যবসা পরিচালনার অভিযোগ রয়েছে এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। বড় বড় প্রকল্পের ক্ষেত্রে কথিত ভ্যারিয়েশন, ফ্রন্টলোডিং এবং পরিমাপ জালিয়াতির (Measurement Fraud) মতো জটিল প্রকৌশলগত কারসাজি চালিয়ে তিনি হাতিয়ে নিয়েছেন শতকোটি টাকা। সম্প্রতি বিতর্কিত লটারির মাধ্যমে ঢাকা ই/এম বিভাগ-৬ থেকে ২ নম্বর ই/এম বিভাগে বদলি হয়েছেন তিনি, যা নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে নানা প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে বড় সরকারি ভবনের লিফট স্থাপন, জেনারেটর ক্রয়, কেন্দ্রীয় এসি (AC) সরবরাহ এবং কাঠের কারখানার অভ্যন্তরীণ সাজসজ্জার টেন্ডারে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ খতিয়ে দেখছে দুদক।
অভিযোগ রয়েছে, ক্ষমতার অপব্যবহার করে সৈয়দ ইসকান্দার আলী অবৈধ উপায়ে গড়ে তুলেছেন বিশাল সম্পদের পাহাড়। তার উল্লেখযোগ্য স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির মধ্যে রয়েছে:
রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা: ব্লক-কে, রোড নং-১০২, বাসা নং-২৩/৩।
বাণিজ্যিক সম্পদ: গুলিস্তান হল মার্কেটে ২৭টি দোকান এবং বকশিবাজারে ৪টি দোকান।
জমি ও আবাসন: মাগুরার ৭নং পলাশবাড়িয়া ইউনিয়নে শত বিঘা জমি এবং পূর্বাচলে প্রবাসী পল্লী গ্রুপে ৩০ কাঠা জমি।
সবমিলিয়ে অর্ধশতাধিক বিঘা জমি এবং নামে-বেনামে শতাধিক কোটি টাকার সম্পদের মালিক বনে গেছেন এই নির্বাহী প্রকৌশলী। সরকারি দায়িত্বে থেকে এমন নজিরবিহীন দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের সুষ্ঠু তদন্তপূর্বক তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
ভদ্রতার আড়ালে লুকিয়ে থাকা বহুরূপী প্রকৌশলী ইসকান্দার আলীর দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারে ধ্বংসের মুখে বহু ঠিকাদার ও প্রকৌশলীর পেশাগত জীবন।
নিজস্ব প্রতিবেদক 



















