
রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় একাধিক চাঞ্চল্যকর অপরাধ এবং বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে আলোচনায় এসেছেন আজমির ওরফে অমিত। তাঁর এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে স্বর্ণ চোরাচালান, অস্ত্র, বিস্ফোরক ও পুলিশ হত্যাসহ একাধিক গুরুতর মামলার তথ্য পাওয়া গেছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, শুধু অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডই নয়, বরং নামে-বেনামে গড়ে তোলা হয়েছে কোটি কোটি টাকার স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি। এর মধ্যে রয়েছে বহুতল ভবন, বিলাসবহুল ফ্ল্যাট, জমি এবং তেলের ট্যাংকার।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, অমিতের বিরুদ্ধে ময়মনসিংহ ও ঢাকার বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা বিচারাধীন বা নথিবদ্ধ রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—
ত্রিশাল থানা: অস্ত্র মামলা (বিশেষ ট্রাইব্যুনাল মামলা নং ৫১/২০১৮), বিস্ফোরক মামলা (বিশেষ ট্রাইব্যুনাল মামলা নং ৫৩/২০১৮) এবং পুলিশ হত্যা মামলা (দায়রা মামলা নং ৯৭৭/২০২০)।
ভালুকা থানা: বিস্ফোরক মামলা (বিশেষ ট্রাইব্যুনাল মামলা নং ৫৭/২০১৫) এবং অতিরিক্ত দায়রা জজ আদালতের আরও কিছু মামলা (১/২০২০ ও ৩/২০২০)।
অন্যান্য: চোরাচালান সংক্রান্ত দুটি মামলা এবং রমনা থানায় অস্ত্র, বিস্ফোরক ও সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একাধিক মামলা।
রাজধানীর বিভিন্ন অভিজাত এলাকায় অমিত ও তাঁর পরিবারের রয়েছে বিশাল সাম্রাজ্য। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—
সাতারকুল: উত্তর বাড্ডার সাতারকুল রোডের ২৪৪ নম্বর ঠিকানায় প্রায় ছয় কাঠা জমির ওপর নির্মিত একটি বহুতল ভবন। বর্তমানে ভবনটি একটি তৈরি পোশাক কারখানার কাছে ভাড়া দেওয়া হয়েছে, যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৩০ কোটি টাকা। এ ছাড়া একই এলাকায় প্রায় দুই কোটি টাকা মূল্যের দুটি ফ্ল্যাট রয়েছে।
উত্তরা ও দক্ষিণখান: উত্তরায় অমিতের তিনটি ফ্ল্যাট রয়েছে, যেগুলোর সম্মিলিত বাজারমূল্য প্রায় ৫০ কোটি টাকা। পাশাপাশি দক্ষিণখানে রয়েছে ১৪ কাঠা জমি।
শুধু রাজধানী বা ময়ূমসিংহেই নয়, নোয়াখালীর হাতিয়া অঞ্চলেও রয়েছে অমিতের বিপুল সম্পত্তি। সেখানকার হন্নি গ্রামে তাঁর নিজ বাড়ি ও কয়েক বিঘা জমির পাশাপাশি একটি তেলের ট্যাংকার থাকার তথ্যও বিভিন্ন সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানার জন্য আজমির ওরফে অমিতের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি, ফলে তাঁর কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
নিজস্ব প্রতিবেদক 

























