
খুলনা জেলা ও মহানগরে বাড়ছে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড ও হত্যাকাণ্ডের আতঙ্ক। সর্বশেষ রূপসা উপজেলার আঠারোবেকি নদীর চর থেকে মেহেদী হাসান (৩৫) ও রেজাউল করিম (৩০) নামের দুই যুবকের গুলিবিদ্ধ মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার (২ জুলাই) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে আইচগাতি ইউনিয়নের সিংহের চর এলাকা থেকে মরদেহ দুটি উদ্ধার করা হয়।
নিহত মেহেদী ও রেজাউল স্থানীয়ভাবে আলোচিত সন্ত্রাসী গোষ্ঠী ‘বি-কোম্পানি’র সক্রিয় সদস্য ছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। তাদের শরীরে বিভিন্ন স্থানে গুলির চিহ্ন রয়েছে। রূপসা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাসুম খান জানান, ধারণা করা হচ্ছে—তাদের গুলি করে হত্যার পর মরদেহ নদীতে ফেলে দেওয়া হয়েছিল।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর অবস্থানের মধ্যেও খুলনায় খুনোখুনি থামছে না। গত মাত্র ১২ দিনের ব্যবধানে খুলনা মহানগর ও জেলায় অন্তত সাতটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। একই সময়ে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন আরও পাঁচজন। চলতি বছরের ১ নভেম্বর পর্যন্ত শুধু খুলনা অঞ্চলেই হত্যা ও সহিংসতার শিকার হয়েছেন ৭৫ জন।
রোববার সন্ধ্যা: খুলনা নগরের আড়ংঘাটা থানার রায়েরমহল এলাকায় নিজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে কুপিয়ে হত্যা করা হয় মহানগর তাঁতী দলের যুগ্ম আহ্বায়ক হুমায়ুন কবিরকে।
শনিবার রাত: লবণচরা এলাকার রাস্তা থেকে এক যুবকের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
২২ অক্টোবর: পূর্ব বানিয়াখামার এলাকায় এক যুবক এবং এর কিছুক্ষণ পর জিন্নাহপাড়া এলাকায় এক গৃহবধূকে গুলি করে হত্যা করা হয়।
এ ছাড়া ২৪ ও ২৬ অক্টোবর দফায় দফায় গুলি ও হামলার শিকার হন যুবদলের বর্তমান ও সাবেক নেতাসহ বেশ কয়েকজন।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রাথমিক ধারণা, সাম্প্রতিক এসব হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে মূলত অস্ত্র ও মাদকের কারবার নিয়ন্ত্রণ, চাঁদাবাজি, পূর্বশত্রুতা এবং অভ্যন্তরীণ সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর মধ্যকার বিরোধ কাজ করছে। একের পর এক এমন খুনের ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।
অনলাইন ডেস্ক 
























