
শ্রেণিকক্ষে অতিরিক্ত প্রযুক্তি-নির্ভরতা কমাতে এবং শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষায় বড় পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে মেক্সিকো সরকার। প্রেসিডেন্ট ক্লাউদিয়া শেইনবাউমের প্রশাসনের ঘোষণা অনুযায়ী, দেশের প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে মুঠোফোন ও অন্যান্য ইলেকট্রনিক ডিভাইস ব্যবহারে সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হতে যাচ্ছে।
তবে সরকারের এই যুগোপযোগী সিদ্ধান্ত নিয়ে দেশজুড়ে তৈরি হয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। একদল বিশেষজ্ঞ ও অভিভাবক এটিকে সাধুবাদ জানালেও, অপরাধ ও সহিংসতায় জর্জরিত অঞ্চলগুলোর মানুষের মধ্যে দেখা দিয়েছে তীব্র আতঙ্ক।
কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, শিক্ষার্থীদের মনোযোগের অভাব, মানসিক চাপ এবং ডিজিটাল আসক্তি দূর করতেই এই কঠোর নীতি গ্রহণ করা হয়েছে। বিদ্যালয় চলাকালে শিক্ষার্থীরা কোনো ধরনের স্মার্টফোন বা ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহার করতে পারবে না। তবে যাতায়াতের সময় শিক্ষার্থীরা ফোন সাথে রাখতে পারবে। পাশাপাশি, শিক্ষক বা চিকিৎসকের বিশেষ অনুমতি সাপেক্ষে এবং প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের চিকিৎসাগত প্রয়োজনে এর ব্যতিক্রম বা ব্যবহারের সুযোগ রাখা হয়েছে।
পাশাপাশি শিশুদের অনলাইন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চলতি মাসেই নতুন একটি ডিজিটাল বিধিমালা চালু করতে যাচ্ছে মেক্সিকো সরকার। এর মাধ্যমে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলোকে ঘৃণা ছড়ানো বক্তব্য, সাইবার বুলিং এবং যৌন সহিংসতার মতো বেআইনি উপাদান তাৎক্ষণিকভাবে অপসারণ করতে বাধ্য করা হবে।
মেক্সিকান পাবলিক এডুকেশন সেক্রেটারি মারিও দেলগাদো জানিয়েছেন, এই উদ্যোগ কমবয়সীদের মানসিক ব্যাধি ও ডিজিটাল আসক্তি রোধে সাহায্য করবে। ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের নিউরোডেভেলপমেন্ট গবেষক ড. লুসিয়া মেগিস-ওয়েনবার্গও এই সিদ্ধান্তকে সমর্থন করে একে সময়োপযোগী বলে আখ্যা দিয়েছেন। তার মতে, শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ স্বাভাবিক রাখতে প্রযুক্তি ব্যবহারে নিয়ন্ত্রণ অত্যন্ত জরুরি। এছাড়া ন্যাশনাল ইউনিয়ন অব প্যারেন্টসও সরকারের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে।
তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করছেন অপরাধপ্রবণ ও সহিংসতাপ্রবণ এলাকার অভিভাবকরা। ‘নেটওয়ার্ক ফর চিলড্রেন্স রাইটস ইন মেক্সিকো’-এর তথ্য বলছে, চলতি বছরের প্রথমার্ধেই দেশের শূন্য থেকে ১৭ বছর বয়সীদের প্রায় ১০ জনের মধ্যে ১ জন সংগঠিত অপরাধের শিকার হয়েছে।
এমন ঝুঁকিপূর্ণ বাস্তবতায় সিনালোয়া ও তমাউলিপাস রাজ্যের মতো অঞ্চলের অভিভাবকরা প্রশ্ন তুলেছেন—জরুরি বা সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতিতে সন্তানের সাথে যোগাযোগের মাধ্যম বন্ধ থাকলে তাদের নিরাপত্তা কীভাবে নিশ্চিত হবে? সিনালোয়ার প্রতিনিধি ফ্রান্সিসকো ওরটিজ অভিযোগ করেছেন, অভিভাবকদের মতামত না নিয়েই একতরফাভাবে এই নিয়ম চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে, যা অভিভাবকত্বের অধিকারের পরিপন্থী।
সব মিলিয়ে, শিশুদের ডিজিটাল আসক্তি মুক্ত করার এই সরকারি উদ্যোগ প্রশংসিত হলেও, দেশের আইন-শৃঙ্খলার অবনতিশীল পরিস্থিতিতে এর বাস্তবায়ন প্রক্রিয়াটি বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।
অনলাইন ডেস্ক 
























