
ভারতের ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গন ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। ভোটার তালিকা সংশোধনের বিরোধিতাকারী কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তার অভিযোগ, কংগ্রেস ও বিরোধীরা মূলত ‘অবৈধ বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের রক্ষা করার’ জন্যই এই প্রক্রিয়ার বিরোধিতা করছে।
সোমবার হায়দরাবাদে আয়োজিত এক বিশাল ‘মহা পদযাত্রা’য় অংশ নিয়ে অমিত শাহ এসব কথা বলেন। এর আগে রবিবার (১ নভেম্বর) নয়াদিল্লির রামলীলা ময়দানে রাহুল গান্ধীর একটি বড় সমাবেশের ঠিক এক দিন পরই এই কড়া মন্তব্য করলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
বিরোধীদের সেই অভিযোগের জবাবে অমিত শাহ বলেন, ভোটার তালিকা থেকে ১৩ কোটি ভোটারের নাম বাদ দেওয়ার যে দাবি করা হচ্ছে, তার প্রকৃত চিত্র সম্পূর্ণ আলাদা।
প্রায় ৬ কোটি ২৫ লাখ ভোটার নতুন ঠিকানায় স্থানান্তরিত হয়েছেন।
প্রায় ৩ কোটি ভোটার মারা গেছেন।
প্রায় ১ কোটি নাম একাধিকবার তালিকাভুক্ত ছিল।
বাকি প্রায় ৩ কোটি ভোটারের কোনো বাস্তব অস্তিত্বই নেই—যাদেরকে তিনি ‘বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী’ বলে অভিহিত করেছেন।
লোহিস ও ভোটারদের অধিকার নিয়ে রাহুল গান্ধীকে কটাক্ষ করে শাহ বলেন, ‘একজনের যদি দুটি ভোট থাকে, তবে কি একটি বাতিল করা উচিত নয়? আসল কথা হলো, রাহুল বাবার পেটব্যথার কারণ হলো ওই ৩ কোটি ভুয়া ও অস্তিত্বহীন ভোটার, যারা মূলত বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী।’ কংগ্রেস ভুয়া ভোটের মাধ্যমেই নির্বাচন দখল করতে চায় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এসআইআরের কারণে নরেন্দ্র মোদি নির্বাচনে জয়ী হয়েছেন—রাহুল গান্ধীর এমন দাবির তীব্র প্রতিবাদ জানান অমিত শাহ। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, ২০১৪ ও ২০১৯ সালের সাধারণ নির্বাচনে কোনো এসআইআর ছিল না, তবুও নরেন্দ্র মোদি জয়ী হয়েছিলেন। জনগণের রায় নিয়েই বিজেপি বারবার ক্ষমতায় এসেছে।
বিগত বিভিন্ন রাজ্য নির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে অমিত শাহ বলেন, ২০২৪ সালের পর মহারাষ্ট্র, হরিয়ানা এবং বিহারে বড় ব্যবধানে জয় পেয়েছে বিজেপি। এমনকি দীর্ঘ ৩০ বছর পর দিল্লিতেও দল জয়লাভ করেছে। পশ্চিমবঙ্গেও বিরোধীদের রাজনৈতিক অবস্থান দুর্বল হয়ে পড়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
এসআইআরের বিরুদ্ধে ‘ইন্ডিয়া’ জোটের প্রচারের পাল্টা কৌশল হিসেবে সোমবার তেলেঙ্গানার হায়দরাবাদে বিজেপির দেশব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে এক ‘মহা পদযাত্রা’ বের হয়। এই পদযাত্রার নেতৃত্ব দেন খোদ অমিত শাহ।
শহরের প্রাণকেন্দ্র বশিরবাগে বাবু জগজীবন রামের মূর্তির সামনে থেকে পদযাত্রা শুরু হয়। জাতীয় পতাকা হাতে নিয়ে এতে অংশ নেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জি কিষান রেড্ডি, বান্দি সঞ্জয় কুমার, তেলেঙ্গানা বিজেপির সভাপতি এন রামচন্দর রাওসহ দলটির সংসদ সদস্য, বিধায়ক এবং শত শত নেতাকর্মী।
অনুপ্রবেশকারীদের প্রসঙ্গ টেনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাফ জানিয়ে দেন, যতই চেষ্টা করা হোক না কেন, বিজেপি ভোটার তালিকা থেকে প্রতিটি অনুপ্রবেশকারীর নাম বাদ দিয়ে তাদের দেশ থেকে বের করে দেওয়ার ব্যবস্থা করবে। এ দেশে কেবল এ দেশের নাগরিকরাই ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন। এছাড়া ভাষণের শেষ পর্যায়ে সর্দার বল্লভভাই প্যাটেলের ঐতিহাসিক ভূমিকার কথাও স্মরণ করেন তিনি।
অনলাইন ডেস্ক 
























