
দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও লাগামহীন জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পোশাকশ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি দেওয়ার দাবি অত্যন্ত যৌক্তিক বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) প্রেসিডিয়াম সদস্য মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, শ্রমিকদের जायেজ দাবিতে কর্ণপাত না করে বলপ্রয়োগের মাধ্যমে আন্দোলন দমনের চেষ্টা করা হলে তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলবে।
আজ সোমবার (২ নভেম্বর) বিকেলে রাজধানী ঢাকার পল্টন মোড়ে পোশাকশ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি বৃদ্ধি এবং শ্রমিক আন্দোলনে পুলিশি হামলা ও গণগ্রেপ্তারের প্রতিবাদে আয়োজিত এক বিক্ষোভ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
পোশাক খাতের অবদান তুলে ধরে মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেন, দেশের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের প্রধান চালিকাশক্তি হলো এই পোশাকশিল্প। শ্রমিকরা নিজেদের ঘাম ঝরিয়ে চাকা সচল রাখছেন; অথচ তাদের এমন মজুরি দেওয়া হচ্ছে না যা দিয়ে পরিবার নিয়ে খাদ্য, বাসস্থান, চিকিৎসা ও সন্তানদের শিক্ষার ন্যূনতম খরচ মেটানো সম্ভব।
মিরপুর, আশুলিয়া ও গাজীপুরের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে শ্রমিকদের ওপর পুলিশি নির্যাতন ও হয়রানির তীব্র নিন্দা জানিয়ে তিনি বলেন, আন্দোলন দমাতে পুলিশ লাঠিচার্জ, কাঁদানে গ্যাস, সাউন্ড গ্রেনেড ও জলকামান ব্যবহার করছে। এছাড়া শ্রমিকদের বিরুদ্ধে গায়েবি মামলা, গ্রেপ্তার এবং ভয়ভীতি প্রদর্শনের ঘটনা ঘটছে। শ্রমিকদের নির্যাতন করে কখনো শিল্পাঞ্চলে শান্তি বা উৎপাদনের পরিবেশ ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়।
সিপিবির সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ ক্বাফী রতনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন দলের কন্ট্রোল কমিশনের চেয়ারম্যান ও বর্ষীয়ান শ্রমিকনেতা মাহাবুব আলম এবং কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও গার্মেন্ট শ্রমিকনেতা মন্টু ঘোষ। সমাবেশটি পরিচালনা করেন কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও গার্মেন্ট শ্রমিকনেতা সাদেকুর রহমান শামীম।
সমাবেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বর্ষীয়ান শ্রমিকনেতা মাহাবুব আলম বলেন, সরকার একদিকে মজুরি বোর্ড গঠনের মাধ্যমে শ্রমিকদের মজুরি পুনর্নির্ধারণের প্রাথমিক উদ্যোগ নিয়েছে, অন্যদিকে শ্রমিকদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে পুলিশ দিয়ে বলপ্রয়োগ করছে—এই দুটি নীতি সম্পূর্ণ পরস্পরবিরোধী। তিনি অবিলম্বে মজুরি বোর্ডের কার্যক্রম দ্রুত শুরু ও শেষ করার দাবি জানান এবং শ্রমিক প্রতিনিধিদের কার্যকর অংশগ্রহণের মাধ্যমে বাস্তবসম্মত মজুরি নির্ধারণের তাগিদ দেন।
গার্মেন্ট শ্রমিকনেতা মন্টু ঘোষ বলেন, শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি দাবি করা কোনো অপরাধ নয়। শান্তিপূর্ণ আন্দোলন ও সংগঠিত হওয়ার অধিকার তাদের সাংবিধানিক ও গণতান্ত্রিক অধিকার। অবিলম্বে শ্রমিকদের ওপর সব ধরনের দমন-পীড়ন, হয়রানিমূলক মামলা ও গ্রেপ্তার বন্ধ করতে হবে। একই সঙ্গে শ্রমিকদের ওপর চলা হামলার নিরপেক্ষ তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের জবাবদিহির আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।
সমাবেশের সমাপনী বক্তব্যে সিপিবির সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ ক্বাফী রতন সরকারের প্রতি বেশ কিছু জরুরি দাবি উত্থাপন করেন। তিনি বলেন—
১. আন্দোলনরত শ্রমিকদের ওপর সব ধরনের পুলিশি হামলা ও বলপ্রয়োগ অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে।
২. শ্রমিকদের নামে দেওয়া সকল হয়রানিমূলক মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করতে হবে এবং গ্রেপ্তারকৃত শ্রমিকদের দ্রুত মুক্তি দিতে হবে।
৩. শ্রমিকদের অন্যায়ভাবে চাকরিচ্যুতি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন বন্ধ করতে হবে।
৪. দ্রুততম সময়ের মধ্যে মজুরি বোর্ডের কার্যক্রম সম্পন্ন করতে হবে।
৫. মালিকপক্ষ, সরকার ও প্রকৃত শ্রমিক প্রতিনিধিদের কার্যকর আলোচনার মাধ্যমে চলমান সংকটের শান্তিপূর্ণ সমাধান নিশ্চিত করতে হবে।
উল্লেখ্য, এর আগে গত ৩১ অক্টোবর আশুলিয়ায় পোশাক শ্রমিকদের বিক্ষোভের মুখে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ২০টি কারখানায় ছুটি ঘোষণা করেছিল।
অনলাইন ডেস্ক 
























