
বলিউড অভিনেতা ইমরান খান ভারত ছাড়ার নির্দেশ থেকে আপাতত সাময়িক স্বস্তি পেয়েছেন। ভোটার তালিকা সংশোধনের বিরুদ্ধে আয়োজিত এক বিক্ষোভে অংশগ্রহণের জেরে তার বিরুদ্ধে দেশত্যাগের যে আদেশ জারি হয়েছিল, তার ওপর আগামী ৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত স্থগিতাদেশ দিয়েছে বম্বে হাইকোর্ট। পাশাপাশি, ভবিষ্যতে এ ধরনের কোনো আন্দোলন বা প্রতিবাদে অংশ নেবেন না—এমন একটি লিখিত মুচলেকা ও ‘শর্তহীন ক্ষমা’ প্রার্থনা করতে আদালতে সম্মত হয়েছেন এই অভিনেতা।
শুনানি চলাকালীন আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দেয় যে, ইমরান খান একজন মার্কিন নাগরিক এবং তার কাছে ‘ওভারসিজ সিটিজেন অফ ইন্ডিয়া’ (ওসিআই) কার্ড রয়েছে। এই ধরনের কার্ডধারীরা দেশের মর্জির ওপর নির্ভরশীল এবং তারা জন্মসূত্রে ভারতীয় নাগরিকদের মতো সমকক্ষ রাজনৈতিক অধিকার দাবি করতে পারেন না।
গত ১০ অক্টোবর মুম্বাইয়ের আগস্ট ক্রান্তি ময়দানের কাছে ভোটার তালিকা সংশোধনে অনিয়মের অভিযোগ তুলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে এক তরুণ নেতৃত্বাধীন বিক্ষോভ অনুষ্ঠিত হয়। ওই বিক্ষোভে অংশগ্রহণের কারণে পুলিশ ইমরান খানকে সাময়িকভাবে আটক করে।
পরে বিজেপি নেতা কিরিট সোমাইয়া পুলিশের কাছে অভিযোগ করেন যে, একজন বিদেশি নাগরিক হয়ে রাজনৈতিক বিক্ষোভে অংশ নিয়ে অভিবাসন আইন লঙ্ঘন করেছেন ইমরান। এই অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ এফআইআর দায়ের করে এবং গত ১৪ অক্টোবর ফরেনার্স রিজিওনাল রেজিস্ট্রেশন অফিস (এফআরআরও) ‘ইমিগ্রেশন অ্যান্ড ফরেনার্স অ্যাক্ট, ১৯৪৬’ অনুযায়ী খানকে ২৮ অক্টোবরের মধ্যে দেশ ছাড়ার নির্দেশ দেয়।
দেশ ছাড়ার আদেশের পাশাপাশি এফআরআরও থেকে একটি কারণ দর্শানোর নোটিশও দেওয়া হয়। নাগরিকত্ব আইন, ১৯৫৫-এর ৭ডি(ই) ধারায় জাতীয় নিরাপত্তা, সার্বভৌমত্ব ও জনস্বার্থের কারণ দেখিয়ে তার ওসিআই নিবন্ধন কেন বাতিল করা হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়।
পরবর্তীতে এফআরআরও-এর এই নোটিশকে স্বেচ্ছাচারী, অসাংবিধানিক ও অসামঞ্জস্যপূর্ণ উল্লেখ করে হাইকোর্টের শরণাপন্ন হন ইমরান খান। আগামী ৭ ডিসেম্বর মামলার পরবর্তী শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।
অনলাইন ডেস্ক 

























