
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মধ্যে এক ফোনালাপ অনুষ্ঠিত হয়েছে। আলাপে দুই শীর্ষ নেতা দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা, জ্বালানি এবং উদীয়মান প্রযুক্তির মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রগুলোতে সহযোগিতা বিস্তারের বিষয়ে কথা বলেন।
ভারতীয় সংবাদ সংস্থা এএনআই-এর তথ্য অনুযায়ী, মোদি ও ট্রাম্প ভারত-যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত অংশীদারিত্বকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন। ফোনালাপে বিশ্বশান্তি ও আঞ্চলিক নিরাপত্তার পাশাপাশি কৌশলগত বিভিন্ন বৈশ্বিক বিষয় উঠে আসে। পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বার্তায় প্রধানমন্ত্রী মোদি ট্রাম্পের সঙ্গে এ আলোচনাকে অত্যন্ত ‘ফলপ্রসূ’ বলে অভিহিত করেন।
দুই দেশের সুবিধাজনক একটি বাণিজ্য চুক্তি বাস্তবায়নে ওয়াশিংটন ও নয়াদিল্লির আলোচনা অনেকদূর গড়িয়েছে। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র সফরকালে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর জানান, দু’পক্ষই একটি চুক্তির কাছাকাছি পৌঁছেছে। জটিল আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে নীতিগত পার্থক্যের কারণে আলোচনা কিছুটা ধীর হলেও বর্তমানে ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে।
তবে মার্কিন বাণিজ্য আইনের ‘সেকশন ৩০১’-এর আওতায় প্রক্রিয়াটি এখনো চলমান। এই আইনের মাধ্যমে অন্যায্য বাণিজ্যিক আচরণের অভিযোগে যেকোনো দেশের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের সুযোগ পায় ওয়াশিংটন।
রাশিয়া ও ইরানের ওপর প্রস্তাবিত মার্কিন নিষেধাজ্ঞার আইনি প্রভাব নিয়ে ভারতের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছ—যেখানে রাশিয়ার ওপর আরোপিত শুল্ক ও কঠোর নীতির খড়্গ ভারত ও চীনের মতো প্রধান জ্বালানি ক্রেতাদের ওপরও পড়তে পারে।
এ প্রসঙ্গে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় স্পষ্ট জানিয়েছে, দেশের ১৪০ কোটি মানুষের প্রয়োজনীয় জ্বালানি নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে সরকার প্রস্তুত। আন্তর্জাতিক বাজারের ওঠানামার কথা মাথায় রেখে বিভিন্ন উৎস থেকে জ্বালানি আমদানির নীতি অব্যাহত থাকবে।
সম্প্রতি ভারতের পররাষ্ট্রসচিব বিক্রম মিশ্রি মার্কিন কংগ্রেসের একটি প্রতিনিধিদলের কাছে নয়াদিল্লির এই উদ্বেগের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে জানান। তিনি উল্লেখ করেন, এই ধরনের নীতি কেবল দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ওপরই নয়, বরং সমগ্র বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক স্বার্থ সুরক্ষায় স্থানীয় শিল্প সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করবে ভারত সরকার।
অনলাইন ডেস্ক 

























