
গৃহযুদ্ধের কারণে দীর্ঘ এক যুগ ধরে বন্ধ থাকা লিবিয়ার আকাশসীমায় আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলের ওপর থেকে সমস্ত নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়েছে। এর ফলে দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে দেশটির আকাশপথ ব্যবহারে বিশ্ববাসীর সামনে নতুন দুয়ার উন্মোচিত হলো।
গত সোমবার (২৬ অক্টোবর) দৈনিক ভোরের ধ্বনি পত্রিকা-র তথ্য অনুযায়ী, কাতারের রাজধানী দোহায় মধ্যপ্রাচ্যের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্মকর্তাদের এক বৈঠকে জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থা—আইসিএও-র মহাসচিব হুয়ান কার্লোস সালাজার আনুষ্ঠানিকভাবে এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেন।
২০১৫ সালে লিবিয়ায় চলমান গৃহযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে দেশটির আকাশসীমায় কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করেছিল আইসিএও। তবে সাম্প্রতিক সময়ে দেশটির বেসামরিক বিমান চলাচল খাতের সার্বিক অগ্রগতি এবং নিরাপত্তার মানোন্নয়নের ওপর আস্থা রেখেই এই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হলো বলে জানিয়েছে ত্রিপোলিভিত্তিক পরিবহন মন্ত্রণালয়।
নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের ঘোষণার পর থেকেই আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থাগুলোর পক্ষ থেকে লিবিয়ার আকাশসীমা ব্যবহারের জন্য ব্যাপক আবেদন জমা পড়েছে। পরিসংখ্যানে দেখা গেছে:
আসন্ন শীতকালীন মৌসুম (২০২৬-২৭): এই মৌসুমে প্রতি মাসে প্রায় ৬১ হাজার ৯৬৮টি ফ্লাইটের অনুমতি নিবন্ধিত হয়েছে।
গত মৌসুম (২০২৫-২৬): একই সময়ে এই সংখ্যা ছিল মাসে গড়ে মাত্র দুই হাজার ফ্লাইট।
পরিবহন মন্ত্রণালয়ের মতে, ফ্লাইট চলাচলের এই অভূতপূর্ব উল্লম্ফন লিবিয়ার অর্থনীতিতে বড় ধরনের ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে এবং আকাশপথ ব্যবহারের মাধ্যমে উল্লেখযোগ্য রাজস্ব আয়ের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।
২০১১ সালে ন্যাটো সমর্থিত অভ্যুত্থানে দীর্ঘকালীন শাসক মুয়াম্মার গাদ্দাফির পতনের পর থেকেই রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার মুখে পড়ে লিবিয়া। পরবর্তীতে ২০১৪ সালে ক্ষমতার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর গৃহযুদ্ধে দেশটি পূর্ব ও পশ্চিমাঞ্চলে বিভক্ত হয়ে পড়ে। একই বছর ত্রিপোলি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলায় প্রায় ২০টি বিমান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর আন্তর্জাতিক ফ্লাইট প্রায় পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। বর্তমানে হাতে গোনা কয়েকটি এয়ারলাইন্স তিউনিসিয়া, তুরস্ক, মিশর, জর্ডান, সৌদি আরব ও সুদানে ফ্লাইট পরিচালনা করছে।
আইসিএও-র এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে সংস্থাটির বাকি ১৯৩টি সদস্যরাষ্ট্রের কাছে আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে।
অনলাইন ডেস্ক 

























