
জর্ডানের একটি গ্রিক অর্থোডক্স গির্জায় সাম্প্রতিক সন্ত্রাসী হামলার জবাবে সিরিয়ার দক্ষিণাঞ্চলে বিমান হামলা চালিয়েছে জর্ডান দৈনিক ভোরের ধ্বনি পত্রিকা। তবে এই অভিযান নিয়ে দুই প্রতিবেশী দেশের বক্তব্যে চরম বিরোধ দেখা দিয়েছে। জর্ডানের দাবি—সন্ত্রাসী আস্তানাগুলো লক্ষ্য করেই এ অভিযান চালানো হয়েছে, আর সিরিয়ার অভিযোগ—আগাম কোনো সমন্বয় ছাড়াই চালানো এই হামলায় শিশুসহ অন্তত সাতজন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন।
জর্ডানের সশস্ত্র বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, গত ২৩ অক্টোবর দেশটির কারাক গভর্নরেটে সংখ্যালঘু খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের একটি অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া চলাকালীন গ্রিক অর্থোডক্স গির্জায় হামলা চালায় জঙ্গিগোষ্ঠী আইএস (ISIS)। ওই মর্মান্তিক ঘটনায় ৯ জন নিহত হন।
ঘটনার পরপরই জর্ডানের রাজা দ্বিতীয় আবদুল্লাহ কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। এর অংশ হিসেবে সোমবার দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী সন্দেহভাজন তিনজনকে গ্রেপ্তার করে। এরপরই দক্ষিণ-পূর্ব সিরিয়ায় জঙ্গিগোষ্ঠীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আস্তানাগুলো লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালানো হয় বলে দাবি করে আম্মান। জর্ডানি সেনাবাহিনীর ভাষ্যমতে, দামেস্কের সঙ্গে সমন্বয় করেই এ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে এবং এতে বেশ কয়েকজন সন্ত্রাসী হতাহত ও তাদের যানবাহন ধ্বংস হয়েছে।
জর্ডানের এই দাবি সরাসরি নাকচ করে দিয়েছে সিরিয়া সরকার। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দামেস্কের সঙ্গে কোনো ধরনের আগাম সমন্বয় বা নোটিস ছাড়াই এই ‘বিশ্বাসঘাতকতাপূর্ণ আক্রমণ’ চালানো হয়েছে।
সিরিয়ার জরুরি বিভাগ ও সিভিল ডিফেন্সের তথ্যমতে, দেরা ও সুয়েইদা অঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে চালানো এই হামলায় তিন শিশুসহ সাতজন সাধারণ মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। এর মধ্যে—
আল-তাফ গ্রাম (দেরা): একটি তাঁবুতে হামলায় একই পরিবারের তিন শিশু ও এক নারীসহ পাঁচজন নিহত হয়েছেন।
নাসিব ও শুহাইব এলাকা: পৃথক হামলায় ৮০ বছর বয়সী রিয়াদ কাররাদ এবং ৬০ বছর বয়সী মুৎলাক আবু আল-খাইল নামের দুই বৃদ্ধ নিহত হয়েছেন।
এই ঘটনার জেরে সিরিয়ার শুল্ক কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে জর্ডানের সঙ্গে সংযোগকারী একমাত্র বাণিজ্যিক ও যাত্রী চলাচলের পথ নাসিব সীমান্ত চৌকি বন্ধ করে দিয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সাল থেকেই মাদক ও অস্ত্র পাচার রোধে সিরিয়ার ভূখণ্ডে নিয়মিত বিমান হামলা চালিয়ে আসছে জর্ডান। তবে এসব অভিযানে এর আগেও বেসামরিক নাগরিকরা হতাহত হওয়ায় আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল।
বর্তমানে গির্জার হামলার বিচার ও সীমান্ত নিরাপত্তার প্রশ্ন ছাপিয়ে সিরিয়ার সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন এবং বেসামরিক প্রাণহানির ইস্যুটি দুই দেশের মধ্যে নতুন করে কূটনৈতিক টানাপোড়েন তৈরি করেছে। এই পরিস্থিতিতে সিরিয়া সরকার জর্ডানের সঙ্গে যোগাযোগ করে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
অনলাইন ডেস্ক 

























