
বিশ্বের শীর্ষ ১০০টি কনটেইনার বন্দরের তালিকায় এবারও ৬৮তম স্থান ধরে রেখেছে চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর। টানা দুই বছর একই অবস্থানে অবস্থান করছে দেশের অর্থনীতির প্রধান এই চালিকাশক্তি।
আন্তর্জাতিক শিপিং ও সমুদ্রবাণিজ্য বিষয়কখ্যাত সংবাদমাধ্যম লয়েডস লিস্ট শনিবার (২৯ আগস্ট) তাদের ওয়েবসাইটে এই বার্ষিক তালিকাটি প্রকাশ করে। লয়েডস লিস্ট মূলত বিশ্বজুড়ে বন্দরগুলোর বার্ষিক কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ের (পরিবহন) ওপর ভিত্তি করে এই র্যাঙ্কিং তৈরি করে থাকে।
-
চট্টগ্রাম বন্দরের পারফরম্যান্স: ২০২৫ সালে চট্টগ্রাম বন্দর মোট ৩৪ লাখ ৯ হাজার ৬৯ টিইইউএস (২০ ফুট সম দৈর্ঘ্যের) কনটেইনার পরিচালনা করেছে, যা আগের বছরের চেয়ে ৪.১% বেশি। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালে ৩২ লাখ ৭৫ হাজার ৬২৭ টিইইউএস কনটেইনার হ্যান্ডলিং করেও চট্টগ্রাম বন্দর ৬৮তম স্থানে ছিল। ব্যবসা-বাণিজ্যে প্রবৃদ্ধি অর্জন করা সত্ত্বেও বৈশ্বিক অন্যান্য বন্দরের পরিবহন ক্ষমতা দ্রুত বাড়ায় চট্টগ্রামের অবস্থান অপরিবর্তিত রয়েছে।
-
ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা: র্যাঙ্কিং না বাড়লেও লয়েডস লিস্ট চট্টগ্রামের বন্দরের ভবিষ্যৎ নিয়ে বেশ ইতিবাচক মূল্যায়ন করেছে। আন্তর্জাতিক রেড সি গেটওয়ে, এপিএম টার্মিনালস এবং এমএসসির মতো জায়ান্ট বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠানের বড় ধরনের বিনিয়োগের ফলে বন্দরের সক্ষমতা ও চিত্র আমূল বদলে যাবে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
-
বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক চিত্র: ২০২৫ সালে ভূ-রাজনৈতিক চাপ ও বাণিজ্যিক অনিশ্চয়তা সত্ত্বেও বিশ্বজুড়ে কনটেইনার পরিবহন ৬.৩% বেড়ে দাঁড়ায় ৭৯ কোটি ২২ লাখ টিইইউএসে। এর মধ্যে এশিয়ান বন্দরগুলো একাই মোট পরিবহনের প্রায় ৬৮% নিয়ন্ত্রণ করছে, আর কেবল চীনের একক অবদান ছিল ৪০%-এর বেশি।
-
শীর্ষ বন্দর: তালিকায় প্রথম স্থানটি ধরে রেখেছে চীনের সাংহাই বন্দর এবং দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে সিঙ্গাপুর। ৩য় থেকে ৬ষ্ঠ অবস্থানও দখল করে রেখেছে চীনের নিংবো, শেনজেন, কিংডাও ও গুয়াংজু বন্দর।
-
দক্ষিণ এশিয়ায় চট্টগ্রাম: আঞ্চলিক প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে ভারতের মুন্দ্রা বন্দর ২৫তম ও জওহরলাল নেহেরু বন্দর ৩০তম স্থান অর্জন করেছে। এছাড়া শ্রীলঙ্কার কলম্বো ২৯তম এবং পাকিস্তানের করাচি বন্দর ৮৪তম অবস্থানে রয়েছে।
-
অনলাইন ডেস্ক 

























