
যুক্তরাষ্ট্র গত জুনে স্বাক্ষরিত অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তির শর্ত ও প্রতিশ্রুতি রক্ষা করলে ইরানও অবিলম্বে একই পদক্ষেপ নেবে বলে সতর্কবার্তা দিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। কিরগিজস্তানের বিশকেকে সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার (এসসিও) শীর্ষ সম্মেলনে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি বলেন, গত ১৭ জুনের কাঠামো চুক্তি অনুযায়ী ওয়াশিংটন তাদের দেওয়া প্রতিশ্রুতিতে ফিরে এলে তেহরানও অবিলম্বে ইতিবাচক সাড়া দেবে।
মাসুদ পেজেশকিয়ান যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে জানান, সেই কাঠামো চুক্তিটি দুই সপ্তাহের বেশি স্থায়ী হয়নি। কারণ, চুক্তি স্বাক্ষরের পর পরই ওয়াশিংটন অতিরিক্ত দাবি-দাওয়া তুলতে শুরু করে এবং প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে ব্যর্থ হয়। তবে মার্কিন প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের উপযুক্ত জবাব ইরানও দিয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
এদিকে, হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা ও তার জবাবে জর্ডানে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি আবার চরম উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। তবে এই সংঘাতকে ‘সর্বাত্মক যুদ্ধ’ বলতে নারাজ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। উল্টো ইরানকে এক ‘ব্যর্থ রাষ্ট্র’ বলে আখ্যা দিয়ে নতুন করে আঘাত হানার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।
আল জাজিরার ওয়াশিংটন ডিসি প্রতিনিধি ম্যানুয়েল রাপালো জানিয়েছেন, রবিবার হরমুজ প্রণালির প্রবেশদ্বারে অবস্থিত লারাক দ্বীপে মার্কিন হামলার পর থেকেই নতুন করে দ্বিপক্ষীয় উত্তেজনার সূত্রপাত ঘটে। প্রতিক্রিয়ায় জর্ডানের মার্কিন সামরিক ঘাটিকে লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালায় তেহরান। তবে জর্ডানি সশস্ত্র বাহিনী মাঝপথেই ইরানের ছোড়া আটটি ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করে দেওয়ার দাবি করে।
পরিস্থিতি নিয়ে ওভাল অফিসে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কাছে সাংবাদিকরা জানতে চান—এই ঘটনা কোনো পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের ইঙ্গিত কি না। ট্রাম্প প্রশ্নটি এড়িয়ে গিয়ে দাবি করেন, ইরান মূলত একটি দেউলিয়া বা ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে; তাদের মুদ্রাব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে, শীর্ষ সামরিক নেতারা নিহত এবং তাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাও কার্যত ধ্বংসপ্রাপ্ত।
অনলাইন ডেস্ক 

























