
১৫ বছরের দীর্ঘ পথচলা শেষে অ্যাপলের প্রধান নির্বাহী (সিইও) পদে পরিবর্তনের ঘোষণা এসেছে। পদ ছেড়ে দেওয়া টিম কুকের জায়গায় নতুন সিইও হিসেবে দায়িত্ব নিচ্ছেন প্রতিষ্ঠানটির হার্ডওয়্যার বিভাগের প্রধান জন টার্নাস।
তবে সিইও পদ ছাড়লেও অ্যাপল ছাড়ছেন না কুক। তিনি এখন থেকে অ্যাপলের নির্বাহী চেয়ারম্যান হিসেবে কূটনৈতিক ও নীতিনির্ধারণী বিষয়গুলোতে কাজ করবেন।
টিম কুকের ১৫ বছর: সাফল্য ও পরিসংখ্যান
কুকের নেতৃত্বে অ্যাপল আর্থিক দিক থেকে এক অভূতপূর্ব রেকর্ড তৈরি করেছে:
-
রাজস্ব বৃদ্ধি: ২০১১ সালে তাঁর দায়িত্ব নেওয়ার সময় অ্যাপলের বার্ষিক বিক্রি ছিল ১০৮ বিলিয়ন ডলার, যা বর্তমানে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪১৬ বিলিয়ন ডলারে।
-
মুনাফা: বার্ষিক মুনাফা চার গুণেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়ে পৌছেছে ১১২ বিলিয়ন ডলারে।
-
সাপ্লাই চেইন ও সেবা খাত: বিশ্বজুড়ে শক্তিশালী সরবরাহব্যবস্থা গড়ে তোলার পাশাপাশি আইফোন, অ্যাপল ওয়াচ ও এয়ারপডের ব্যাপক বাজার তৈরি করেছেন তিনি। পাশাপাশি অ্যাপল স্টোর, আইক্লাউডসহ বিভিন্ন ডিজিটাল সেবা খাত থেকে রাজস্ব আদায়ের নতুন ধারা তৈরি করেছেন।
যেসব সমালোচনার মুখে ছিলেন কুক
বিশাল আর্থিক সাফল্যের পাশাপাশি কুকের মেয়াদকালে কিছু বড় চ্যালঞ্জও দৃশ্যমান ছিল:
-
উদ্ভাবনের ঘাটতি: স্টিভ জবস যুগের মতো বৈপ্লবিক কোনো নতুন পণ্য না আসার অভিযোগ রয়েছে।
-
ব্যর্থ প্রজেক্ট: ২০২৪ সালে অ্যাপলের উচ্চাভিলাষী বৈদ্যুতিক গাড়ি প্রকল্প বাতিল করা হয়। এছাড়া ২০২৩ সালে প্রকাশিত ৩,৪৯৯ ডলারের ভিশন প্রো হেডসেটটি বাজারে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য পায়নি।
-
এআই (AI) দৌড়ে পিছিয়ে থাকা: গুগল ও মাইক্রোসফটের তুলনায় অ্যাপলের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি—বিশেষ করে সিরি (Siri)-র আধুনিক সংস্করণের ধীরগতি নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা রয়েছে।
নতুন সিইও জন টার্নাসের প্রধান চ্যালেঞ্জ
নতুন সিইও জন টার্নাসকে দায়িত্ব নেওয়ার পরই বেশ কিছু কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হবে:
-
এআই বিপ্লব: প্রযুক্তি বিশ্বে অ্যাপলকে এআই-এর দৌড়ে পুনরায় নেতৃত্বস্থানে নিয়ে যাওয়া এবং সিরিকে আধুনিক রূপ দেওয়া।
-
চীননির্ভরতা কমানো: ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার মুখে অ্যাপলের উৎপাদনব্যবস্থা চীন থেকে সরিয়ে ভারত ও ভিয়েতনামে বিস্তৃত করা। ২০২৬ সালের মধ্যে আমেরিকার বাজারের জন্য নির্ধারিত অধিকাংশ আইফোন ভারতে অ্যাসেম্বল করার লক্ষ্য রয়েছে।
অন্যদিকে, টিম কুক নির্বাহী চেয়ারম্যান হিসেবে সরকার ও নীতিনির্ধারকদের সাথে কৌশলগত সম্পর্ক বজায় রাখার ওপর জোর দেবেন, যা বিশেষ করে মার্কিন-চীন চলমান রাজনৈতিক উত্তেজনার সময়ে অ্যাপলের জন্য বড় সহায়ক ভূমিকা রাখবে।
অনলাইন ডেস্ক 

























