
কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বাব আল-মান্দাব প্রণালির দখল কেন্দ্র করে ইয়েমেনের সরকারি বাহিনী ও হুথি বিদ্রোহীদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়েছে। এতে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১২৯ জনে পৌঁছেছে। জাতিসংঘ-মধ্যস্থতায় ২০২২ সালের যুদ্ধবিরতির পর এটিকে দেশটিতে ঘটে যাওয়া সবচেয়ে ভয়াবহ সংঘাত হিসেবে দেখা হচ্ছে। বার্তা সংস্থা এএফপিকে উভয় পক্ষের একাধিক সূত্র এই প্রাণহানির খবর নিশ্চিত করেছে।
কৌশলগত অবস্থান দখলের চেষ্টা গত বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) দক্ষিণ ইয়েমেনের তাইজ-মোখা ফ্রন্টে লড়াইয়ের সূচনা হয়। কৌশলগত বন্দরনগরী মোখাকে বিচ্ছিন্ন করতে এবং লোহিত সাগরের দক্ষিণ প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত বাব আল-মান্দাব প্রণালিতে অবস্থান শক্ত করতে হুথিরা সমন্বিত অভিযান শুরু করে। স্থল আক্রমণের পাশাপাশি তারা রকেট, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করে সরকারি ঘাটিতে হামলা চালায়।
সরকারি সূত্র মতে, লড়াইয়ের একপর্যায়ে লোহিত সাগরের উপকূলীয় অঞ্চল ও তাইজ শহরের দিকে প্রসারিত বেশ কয়েকটি কৌশলগত পাহাড় ও উঁচু অবস্থান দখলে নিতে সক্ষম হয়েছে হুথিরা। এসব উঁচু স্থান থেকে সমুদ্রপথে চলাচলকারী বাণিজ্যিক ও সামরিক নৌযানে খুব সহজেই নজরদারি ও হামলা চালানো সম্ভব।
হতাহতের খবর শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) পাওয়া তথ্য অনুযায়ী:
-
সরকারি বাহিনী: ৬৬ জন সেনাসদস্য নিহত হয়েছেন।
-
হুথি বিদ্রোহী: চিকিৎসা ও সামরিক সূত্র নিশ্চিত করেছে যে অন্তত ৬৩ জন যোদ্ধা মারা গেছে।
-
বেসামরিক নাগরিক: উপকূলীয় মোখা শহরে হুথিদের গোলাবর্ষণে ১ জন সাধারণ নাগরিক নিহত হন।
তবে কোনো পক্ষই এখনো তাদের ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ ও আনুষ্ঠানিক তালিকা প্রকাশ করেনি।
বৈশ্বিক বাণিজ্য ও নৌপথে নতুন উদ্বেগ লোহিত সাগরের প্রবেশদ্বার বাব আল-মান্দাব বিশ্বের অন্যতম প্রধান ও ব্যস্ততম আন্তর্জাতিক নৌপথ। চলমান মধ্যপ্রাচ্য উত্তেজনার কারণে এমনিতেই হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল চরম বাধার মুখে পড়েছে। এর ওপর বাব আল-মান্দাব প্রণালি ঘিরে যদি নতুন সংকট দীর্ঘায়িত হয়, তবে বিশ্বজুড়ে পণ্য পরিবহন ও জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের বিপর্যয় দেখা দিতে পারে বলে তীব্র আশঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে।
অনলাইন ডেস্ক 

























