
প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে অবিলম্বে পদ থেকে সরানোর জোরালো দাবি জানিয়েছেন ইসরাইলের বিরোধী দলীয় এমপি গিলাদ কারিভ। তার মতে, দেশের ভবিষ্যৎ ও অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতেই নেতানিয়াহুকে ক্ষমতা থেকে সরানো অপরিহার্য হয়ে পড়েছে।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ দেওয়া এক বার্তায় লেবার পার্টির এই নেতা নেতানিয়াহুর তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি অভিযোগ করেন, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের সামরিক অভিযানের ক্ষেত্রে ইসরাইলি সেনাবাহিনীর নিজস্ব তদন্ত প্রক্রিয়াকে ইচ্ছাকৃতভাবে এড়িয়ে চলছেন প্রধানমন্ত্রী।
এমপি কারিভ আরও বলেন, ৭ অক্টোবরের ঘটনার পর নেতানিয়াহু যেমন গাজা সংলগ্ন কিবুতজ এলাকাগুলোতে সফরে যাননি, তেমনই এখন সেনাবাহিনীর তদন্ত প্যানেলকেও পাশ কাটিয়ে চলছেন। নেতানিয়াহু দেশের নিরাপত্তাকে বারবার অবহেলা করেছেন এবং জাতীয় নিরাপত্তা পরিচালনায় চরম ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছেন বলে তিনি দাবি করেন। কারিভের ভাষায়, “এমন একজন ব্যর্থ ব্যক্তির হাতে দেশ ও আমাদের সন্তানদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের দায়িত্ব রাখা যায় না।”
রাষ্ট্রীয় তদন্ত কমিশনের দাবি ও রাজনৈতিক চাপ
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের নিরাপত্তা ব্যবস্থার চরম ব্যর্থতা অনুসন্ধানে একটি নিরপেক্ষ ‘রাষ্ট্রীয় তদন্ত কমিশন’ গঠনের দাবি জানাচ্ছে ইসরাইলের সাধারণ জনগণ ও প্রধান বিরোধী দলগুলো। তবে নেতানিয়াহুর সরকার সেই দাবি নাকচ করে দিয়ে নিজেদের পছন্দের একটি নিজস্ব তদন্ত প্যানেল দিয়ে বিষয়টি মেটানোর চেষ্টা করছে।
বর্তমানে একাধিক ইস্যুতে বেশ চাপে রয়েছেন নেতানিয়াহু:
-
আসন্ন নির্বাচন: আগামী ২৭ অক্টোবর ইসরাইলে পার্লামেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে, যেখানে বিভিন্ন জনমত জরিপে নেতানিয়াহু ও তার দল লিকুদ পার্টির অবস্থান বেশ দুর্বল দেখাচ্ছে।
-
আইনি জটিলতা: দেশে তার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে চলা দুর্নীতির মামলার বিচার কাজ চলছে।
-
আন্তর্জাতিক পরোয়ানা: গাজায় যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) ইতিপূর্বে তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে।
অনলাইন ডেস্ক 

























