
কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর উপজেলার পশ্চিম ভাগলপুর এলাকার ৮ নং বেকীতে ইকরা ফুটওয়্যার ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের সামনের সরকারি পানি নিষ্কাশনের কালভার্ট ও পানি চলাচলের পথ নিয়ে বিরোধ দেখা দিয়েছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে একদিকে শিল্পপ্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত আবেদন করা হয়েছে, অন্যদিকে স্থানীয় বাসিন্দারা সরকারি পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ করে বহুতল ভবন নির্মাণের অভিযোগ তুলে স্থায়ী সমাধানের দাবি জানিয়েছেন।
জানা গেছে, গত ২২ জুলাই ইকরা ফুটওয়্যার ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের পক্ষ থেকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর দেওয়া এক লিখিত আবেদনে অভিযোগ করা হয়, কারখানার সামনের বিদ্যমান কালভার্টটি দীর্ঘদিন ধরে এলাকার বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনের প্রধান পথ হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। কিন্তু সম্প্রতি ওই পানি নিষ্কাশনের পথ মাটি দিয়ে ভরাটের কাজ করা হচ্ছে। এতে কারখানাসহ আশপাশের এলাকায় জলাবদ্ধতার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
আবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, বিষয়টি নিয়ে পূর্বে বিরোধ সৃষ্টি হলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশনায় উভয় পক্ষকে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। তবে অভিযোগ অনুযায়ী, বিরোধের নিষ্পত্তি হওয়ার আগেই প্রশাসনের পূর্বের নির্দেশনা উপেক্ষা করে পানি চলাচলের পথ ভরাটের কাজ চালানো হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, পানি চলাচলের সুবিধার্থে সংলগ্ন এক জমির মালিক প্রয়োজনীয় জায়গা দিতে সম্মতি দিলেও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি কোনো সমঝোতায় না এসে একতরফাভাবে পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ করার উদ্যোগ নিয়েছেন।
অন্যদিকে স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, পৌরসভার ৬ নং ওয়ার্ডের ভাগলপুর উত্তর মৌজা এবং ৯ নং ওয়ার্ডের চন্দ্রগ্রাম দক্ষিণ মৌজার সরকারি সীমারেখা (শিম লাইন) ঘেঁষে দীর্ঘদিন ধরে পানি নিষ্কাশনের একটি পথ বিদ্যমান ছিল। তাদের দাবি, ওই পথ দিয়েই আশপাশের এলাকার বৃষ্টির পানি স্বাভাবিকভাবে প্রবাহিত হতো। বর্তমানে ওই কালভার্ট ও পানি চলাচলের পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, ভারী বৃষ্টিপাত হলেই সড়ক, বসতবাড়িসহ ৮ নং বেকী এলাকার তিন শতাধিক মানুষ জলাবদ্ধতার দুর্ভোগে পড়েন। দীর্ঘ সময় পানি জমে থাকায় সাধারণ মানুষের চলাচল, শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে যাতায়াত, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। তারা দ্রুত সরকারি পানি নিষ্কাশনের পথ পুনরুদ্ধার করে স্থায়ী ড্রেনেজ ব্যবস্থা নিশ্চিত করার দাবি জানান।
এ বিষয়ে বেসরকারি সার্ভেয়ার আব্দুল হাকিম বলেন, “সরেজমিনে পরিমাপ এবং সংশ্লিষ্ট ভূমি রেকর্ড পর্যালোচনায় দেখা গেছে, সরকারি সীমারেখা (শিম লাইন) সিএস (ক্যাডাস্ট্রাল সার্ভে) রেকর্ডে ৬ ফুট ৮ ইঞ্চি এবং আরএস (রিভিশনাল সার্ভে) রেকর্ডে ৫ ফুট ৩ ইঞ্চি রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এ পথ দিয়েই এলাকার বৃষ্টির পানি স্বাভাবিকভাবে নিষ্কাশিত হয়ে আসছিল।
এ বিষয়ে ইকরা ফুটওয়্যার ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের মালিক মো. মোবারক ইসলাম বলেন, “আমার ইন্ডাস্ট্রিজের ভেতর দিয়ে পানি নিষ্কাশনের জন্য অনেক আগেই ব্যবস্থা করে রেখেছি। পানি বের হওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। সামনের বন্ধ হয়ে থাকা পানি নিষ্কাশনের পথটি উন্মুক্ত করে দিলেই এ সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।
বেকী এলাকার জলাবদ্ধতা এবং পানি নিষ্কাশনের জন্য ব্যবহৃত কালভার্ট ও পথ বন্ধের বিষয়ে জানতে চাইলে সরারচর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মারজান মিয়া বলেন, “বিষয়টি নিয়ে দুই পক্ষকে নিয়ে বসে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করা হবে। পানি নিষ্কাশনে যাতে কোনো সমস্যা না হয়, সে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হবে।
এ বিষয়ে জানতে বাজিতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জালাল উদ্দীনকে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
তবে অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট জমির মালিকের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাঁর বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে প্রকাশ করা হবে।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, প্রশাসন দ্রুত বিষয়টি সরেজমিনে তদন্ত করে প্রকৃত অবস্থা নিরূপণ করবে এবং সরকারি পানি নিষ্কাশনের পথ সংরক্ষণ ও জলাবদ্ধতা নিরসনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
নিজস্ব প্রতিবেদক 

























