
রাজধানীসহ সারা দেশে পরিকল্পিত আবাসন ও ইমারত নির্মাণ বিধিমালা বাস্তবায়নে কঠোর অবস্থান নিয়েছে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়। নকশা বহির্ভূত ভবন নির্মাণ বন্ধ এবং সুয়ারেজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট (এসটিপি) বাস্তবায়নে আইন ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার বার্তা দেওয়া হয়েছে।
রোববার সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (রিহ্যাব) ও বাংলাদেশ ল্যান্ড ডেভেলপার অ্যাসোসিয়েশনের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে এক উচ্চপর্যায়ের মতবিনিময় সভায় এসব সিদ্ধান্ত ও হুঁশিয়ারি দেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী জাকারিয়া তাহের।
আইন লঙ্ঘনে শূন্য সহনশীলতা
সভায় মন্ত্রী জাকারিয়া তাহের বলেন, “অতীতে দেশে ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে বিদ্যমান আইন ও নীতিমালার সঠিক বাস্তবায়নে ঘাটতি ছিল। ভবনের অনুমোদিত নকশায় সুয়ারেজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট (এসটিপি) ও সোক ওয়েল অন্তর্ভুক্ত থাকা সত্ত্বেও অনেক ডেভেলপার প্রতিষ্ঠান তা বাস্তবায়ন করেনি। কিন্তু এখন থেকে আইনের কোনো ব্যত্যয় সহ্য করা হবে না।” আগামীতে কেউ যেন নকশার বাইরে এক ইঞ্চিও ভবন নির্মাণ করতে না পারে, তা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন তিনি।
রাজউকে শতভাগ ডিজিটালাইজেশন ও নতুন নীতিমালা
আবাসন খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে রাজউকের ভূমি ব্যবহার ছাড়পত্র ও নকশা অনুমোদনের পুরো প্রক্রিয়াটি শতভাগ ডিজিটালাইজেশনের আওতায় আনা হচ্ছে বলে সভায় জানানো হয়। এছাড়া জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের বিধিমালা সংশোধন করে ঢাকার বাইরের ডেভেলপারদেরও নির্দিষ্ট সুনির্দিষ্ট নীতিমালার আওতায় আনার ঘোষণা দেওয়া হয়। মন্ত্রী রিহ্যাব ও ল্যান্ড ডেভেলপার অ্যাসোসিয়েশনের নেতাদের নিজ নিজ সদস্যদের সচেতন করার আহ্বান জানান।
গ্রাহক ভোগান্তি কমানো ও মানবিক বিবেচনার আহ্বান
সভায় গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মনজুর ডেভেলপারদের প্রতি গ্রাহক স্বার্থ সুরক্ষার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “অনেক গ্রাহক সম্পূর্ণ টাকা পরিশোধ করেও বছরের পর বছর ফ্ল্যাট পাচ্ছেন না। আবার কিস্তি চালাতে না পেরে জমা টাকা ফেরত চাইলে তিন-চার বছর ধরে ঝুলিয়ে রাখা হয়। গ্রাহকদের এসব সংকট মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে দ্রুত সমাধান করা উচিত।”
সভায় উপস্থিত রিহ্যাব ও ল্যান্ড ডেভেলপার অ্যাসোসিয়েশনের নেতারা আইন মেনে আবাসন প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দেন। একই সঙ্গে তারা ঢাকা মহানগর বিশদ অঞ্চল পরিকল্পনা (ড্যাপ) এবং ইমারত নির্মাণ বিধিমালা নিয়ে নিজেদের বিভিন্ন দাবি ও মতামত সরকারের কাছে তুলে ধরেন।
উক্ত সভায় গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, রাজউক চেয়ারম্যান এবং আবাসন খাতের প্রতিনিধি ড. আলী আফজাল, মুস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপু, লিয়াকত আলী খাঁন মুকুলসহ উভয় সংগঠনের ঊর্ধ্বতন নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
অনলাইন ডেস্ক 

























