
যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক সর্বাত্মক বিমান হামলা এবং অর্থনৈতিক অবরোধ জোরদারের জবাবে জর্ডান, বাহরাইন, কুয়েত ও ইরাকে অবস্থিত মার্কিন সামরিক অবস্থানগুলো লক্ষ্য করে মিসাইল ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান। এতে করে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি এক নতুন এবং বিপজ্জনক সংঘাতের দিকে মোড় নিয়েছে।
সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, মার্কিন চাপ মোকাবিলায় ইরানের সামনে মূলত তিনটি প্রধান কৌশলগত ও পাল্টা আঘাত হানার পথ খোলা রয়েছে:
-
আঞ্চলিক বিদ্যুৎ ও জ্বালানি অবকাঠামোয় আঘাত: যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পদক্ষেপ ও অবরোধে সমর্থনকারী প্রতিবেশী দেশগুলোকে বড় ধরনের হামলার হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান। সংঘাত তীব্র হলে মার্কিন ঘাঁটির বাইরে গিয়েও জর্ডান ও উপসাগরীয় দেশগুলোর তেল-গ্যাস ক্ষেত্র, বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং পানি শোধনাগারে হামলার ঝুঁকি বাড়বে। এটি বৈশ্বিক অর্থনীতি ও রাজতন্ত্রিক অবকাঠামোকে চরম অনিশ্চয়তায় ফেলতে পারে।
-
সমুদ্রপথ ও বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহ অবরুদ্ধ করা: বৈশ্বিক তেল সরবরাহের অন্যতম প্রধান মাধ্যম হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি অচল করার কৌশল তেহরানের অন্যতম বড় অস্ত্র। রেভোলিউশনারি গার্ডস (IRGC) এবং লোহিত সাগরের হুতি মিত্ররা যৌথভাবে হরমুজ ও বাব আল-মানদেব প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজ ও তেলবাহী ট্যাঙ্কারে আক্রমণ জোরদার করলে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দামে ভয়াবহ ধস ও সংকট দেখা দিতে পারে।
-
অপ্রথাগত সাইবার যুদ্ধ ও নাশকতামূলক পদক্ষেপ: সরাসরি সামরিক শক্তিতে পিছিয়ে থাকলেও অপ্রতিসম যুদ্ধের অংশ হিসেবে পশ্চিমা অবকাঠামোয় সাইবার হামলার কৌশল নিতে পারে ইরান। পশ্চিমা গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর মতে, স্থানীয় নেটওয়ার্ক ও হ্যাকারদের ব্যবহার করে বিদ্যুৎ, পানি ও গুরুত্বপূর্ণ পরিষেবাগুলোতে আঘাত হেনে পশ্চিমা নাগরিকেদের দৈনন্দিন জীবন অচল করে দেওয়ার সক্ষমতা রয়েছে তেহরানের।
অনলাইন ডেস্ক 

























