
মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকা ও ইরানের মধ্যকার সামরিক সংঘাত আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে।
ইরাকের আধা-স্বায়ত্তশাসিত কুর্দিস্তান অঞ্চলের রাজধানী ইরবিলে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড (আইআরজিসি)।
মঙ্গলবার (০১ সেপ্টেম্বর) রাতে যুক্তরাষ্ট্রের এক সামরিক অভিযানের পাল্টা জবাব হিসেবে এ আক্রমণ চালানো হয় বলে দাবি করেছে তেহরান।
ইরবিলের পাশাপাশি কুয়েত, বাহরাইন এবং জর্ডানেও সমন্বিতভাবে এই আক্রমণ পরিচালনা করা হয়েছে বলে আইআরজিসির তরফ থেকে জানানো হয়।
প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ:
ইরানি বাহিনীর দাবি অনুযায়ী, সম্প্রতি তাদের হরমুজগান প্রদেশের সিরিক এলাকায় একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে হামলা চালিয়ে চারজনকে হত্যা করা হয়। ওই হত্যাকাণ্ডের কঠোর জবাব দিতেই ইরবিলে মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে এই প্রতিশোধমূলক সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
হামলায় ক্ষয়ক্ষতির দাবি:
বিপ্লবী গার্ড জানিয়েছে, তাদের এই সমন্বিত হামলায় ইরবিলে মার্কিন বাহিনীর একটি গুরুত্বপূর্ণ মেরামত কেন্দ্র, যন্ত্রাংশ সংরক্ষণের গুদাম এবং নজরদারি বেলুনের গাইডেন্স সিস্টেম পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে। এছাড়া ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানার পর ঘাঁটির জ্বালানি ট্যাংকে ভয়াবহ আগুন ধরে যায় এবং বেশ কয়েকজন মার্কিন সেনা হতাহত হন বলেও তারা দাবি করেছে। তবে এসব দাবির সত্যতা নিরপেক্ষ কোনো মাধ্যম থেকে এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান:
অন্যদিকে, ওয়াশিংটন এই হামলার বিষয়ে ভিন্ন দাবি করেছে। মার্কিন সামরিক সূত্রের ভাষ্যমতে, হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ এবং মার্কিন বাহিনীর ওপর হামলার ছক কষছিল বিপ্লবী গার্ড। সম্ভাব্য সেই হামলা নস্যাৎ করে দিতেই ইরানের বিভিন্ন সামরিক ঘাঁটিতে অগ্রিম আঘাত হানে যুক্তরাষ্ট্র।
দুই দেশের এই একের পর এক পাল্টাপাল্টি হামলায় গোটা মধ্যপ্রাচ্যে এক থমথমে ও যুদ্ধংদেহী পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
অনলাইন ডেস্ক 

























