Dhaka ০৭:২৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম
উদ্যোক্তা ও প্রযুক্তিভিত্তিক উচ্চশিক্ষার ওপর জোর দিলেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মাছ, মাংস, দুধ ও ডিমের বাজার নিয়ন্ত্রণে কড়া নজরদারির সুপারিশ সংসদীয় কমিটির দুর্গাপুজোর টিকিট বিক্রিতে আর্থিক অনিয়ম: কলকাতা পুলিশের হাতে গ্রেফতার প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন লক্ষ্মীপুরে মাটি ব্যবসায়ী খোরশেদ আলমকে ডেকে নিয়ে গুলি করে হত্যা উরুর চোটে মাঠের বাইরে জোয়াও পেদ্রো ভূরুঙ্গামারীতে ৪ লাখ টাকার ভারতীয় মোবাইলসহ আন্তঃজেলা চোরাকারবারি চক্রের প্রধান গ্রেফতার ভোর রাতে গোবিপ্রবির বনলতা ও অপরাজিতা হলে চুরি: নিরাপত্তা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ শিক্ষার্থীদের সমুদ্রের প্রলয়ংকরী ঝড়ের নামকরণ যেভাবে হয়, আসছে যে ১০ নাম ছোটপর্দায় নতুন যাত্রায় অভিনেত্রী নূপুর আহসান, আসছে ৭টি নতুন প্রজেক্ট ৬৬ বছরের ইতিহাসে সেরা অঘটন দেখল বিশ্ব

বিআরটিএ ঢাকা মেট্রো সার্কেল-১: দুই দশক ধরে এক কার্যালয়ে রুহুল আমিন, দুর্নীতির একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য

  • অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : ০২:০১:৫৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৩০৬ বার

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) ঢাকা মেট্রো সার্কেল-১ (মিরপুর) অফিসে দুর্নীতি, অনিয়ম ও সিন্ডিকেট রাজত্বের প্রধান চাবিকাঠি যেন এক কর্মকর্তার হাতেই বন্দী। তিনি সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা খান মোহাম্মদ রুহুল আমিন। বিগত দুই দশক ধরে একই কার্যালয়ে অবস্থান করে একের পর এক অপকর্মের জন্ম দিলেও অদৃশ্য এক ‘বিশেষ ক্ষমতার’ জোরে তিনি রয়ে গেছেন বহাল তবিয়তে।

রাজনৈতিক আশ্রয় ও ক্ষমতার প্রভাব সাবেক হিসাবরক্ষক থেকে সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা পদে উন্নীত হওয়া রুহুল আমিনের হাত দিয়েই সম্পন্ন হয় নতুন-পুরাতন ড্রাইভিং লাইসেন্স, যানবাহনের মালিকানা বদলি ও রুট পারমিট দেওয়ার মূল কার্যক্রম। অভিযোগ রয়েছে, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সাবেক মন্ত্রী শাজাহান খান ও বিতর্কিত সংসদ সদস্য নিক্সন চৌধুরীর আত্মীয় পরিচয়ের দাপট দেখিয়ে তিনি বিআরটিএ-তে নিজস্ব বলয় গড়ে তোলেন। তাঁর এই ক্ষমতার প্রভাবে সহকর্মী বা ভুক্তভোগী কেউই মুখ খোলার সাহস পাননি।

সিএনজি কেলেঙ্কারি থেকে কোটি টাকার অনিয়ম ২০০১ থেকে ২০০৭ সাল পর্যন্ত চলা সিএনজি অটোরিকশা প্রতিস্থাপনের নামে কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের যে অভিযোগ উঠেছিল, তাতেও সহযোগী হিসেবে রুহুল আমিনের নাম আসে। এছাড়া গত বছর সিএনজি স্ক্র্যাপ সংক্রান্ত বড় ধরনের অনিয়মে জড়িতদের তালিকায় তাঁর নাম উঠে আসার পাশাপাশি কোটি কোটি টাকা লোপাটের সুনির্দিষ্ট তথ্য সামনে আসে। কিন্তু এসবের পরও কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা বা বদলির মুখে পড়তে হয়নি তাঁকে।

‘শাহরাস্তি বিজনেস সেন্টার’: দালাল সিন্ডিকেটের নতুন কার্যালয় বর্তমানে বিআরটিএ কার্যালয়ে দালালদের প্রকাশ্যে দেখা না গেলেও আড়ালে তৈরি হয়েছে বিকল্প ব্যবস্থা। অভিযোগ অনুযায়ী, রুহুল আমিনের মূল সহযোগী ও দালাল সিন্ডিকেটের মূল হোতা মো. হারুন অর রশিদ রুবেল মিরপুর বিআরটিএ অফিসের পাশে ‘শাহরাস্তি বিজনেস সেন্টার’ নামে একটি প্রতিষ্ঠান খুলে বসেছেন।

  • লেনদেন প্রক্রিয়া: সারা ঢাকার দালালরা তাঁদের ফাইল ও কাজ জমা দেন রুবেলের দোকানে। অনলাইন ব্যাংকিং ও সরাসরি লেনদেনের মাধ্যমে প্রতিদিন এখানে লাখ লাখ টাকা আদান-প্রদান হয়।

  • ফাইল পরিচালনা: রুবেলের ব্যক্তিগত সহকারী আব্দুল কাদেরের মাধ্যমে ফাইলগুলো সরাসরি পৌঁছে যায় রুহুল আমিনের টেবিলে। অনুমোদন ও সই শেষে আবার একই প্রক্রিয়ায় তা দালালদের কাছে ফিরে আসে।

  • সম্পদের পাহাড়: রুহুল আমিনের ছত্রচ্ছায়ায় থেকে সামান্য অবস্থান থেকে কয়েক কোটি টাকার মালিক বনে গেছেন রুবেল। ঢাকায় তাঁর একাধিক ফ্ল্যাট ও গাড়িসহ বিপুল অঙ্কের নামে-বেনামে সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে।

অদৃশ্য শক্তির চাবিকাঠি নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিআরটিএর এক কর্মকর্তা জানান, অন্য সার্কেলের দায়িত্বশীলরা যেসব আইনি বা প্রযুক্তিগত ঝামেলাযুক্ত কাজ স্পর্শ করতে চান না, রুহুল আমিন সেসব কাজ অনায়াসে পার করে দেন। বছরের পর বছর সরকার পরিবর্তনের পরও কিভাবে এই ধরনের কর্মকর্তারা এক জায়গায় টিকে থেকে সেবাগ্রহীতাদের জিম্মি করে রাখেন—তা নিয়ে এখন সাধারণ মানুষের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

এসব অভিযোগের সত্যতা জানতে সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা খান মোহাম্মদ রুহুল আমিনের সঙ্গে একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আলোচিত

উদ্যোক্তা ও প্রযুক্তিভিত্তিক উচ্চশিক্ষার ওপর জোর দিলেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর