
বিখ্যাত রাজনৈতিক চিন্তাবিদ ও স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ফ্রান্সিস ফুকুয়ামা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তাঁর নতুন আত্মজীবনীমূলক বই ‘ইন দ্য রিয়েলম অব দ্য লাস্ট ম্যান’-এর বিভিন্ন দিক তুলে ধরেছেন। এতে তিনি নিজের রাজনৈতিক দর্শনের পরিবর্তন, বিশ্ব পরিস্থিতির বর্তমান চ্যালেঞ্জ এবং তাঁর বহুল আলোচিত তত্ত্ব নিয়ে আলোচনা করেন।
সাক্ষাৎকারে উঠে আসা তাঁর মূল বক্তব্যসমূহ নিচে তুলে ধরা হলো:
নিজের চিন্তাধারার রূপান্তর ও অবস্থান পরিবর্তন
-
নব্য-রক্ষণশীলতা ত্যাগ: ২০০৮ সালের বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা এবং ইরাক যুদ্ধের পর ফুকুয়ামা মুক্তবাজারের ওপর অন্ধ নির্ভরতা ও নিওকনজারভেটিভ মতাদর্শ থেকে সরে আসেন।
-
জনকল্যাণমূলক ব্যবস্থার ওপর জোর: তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, একটি সুস্থ গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র টেকসই করতে মুক্তবাজারের পাশাপাশি সামাজিক নিরাপত্তা ও জনকল্যাণমুখী অর্থনৈতিক নীতির সমন্বয় জরুরি।
‘দ্য এন্ড অব হিস্ট্রি’ ও বর্তমান বিশ্ব রাজনীতির সংযোগ
-
মূল ভাবনার স্পষ্টীকরণ: ফুকুয়ামা উল্লেখ করেন, ১৯৮৯ সালের তাঁর বিখ্যাত ‘দ্য এন্ড অব হিস্ট্রি’ ধারণার উদ্দেশ্য ইতিহাসের সার্বিক সমাপ্তি প্রকাশ করা ছিল না। বরং হেগেলীয় দর্শনের আলোকে উদারনৈতিক গণতন্ত্রকেই মানবিক অগ্রগতির চূড়ান্ত পর্যায় হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল।
-
পপুলিজমের উত্থান: নিটশের ‘লাস্ট ম্যান’ তত্ত্বের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি জানান, মানুষ কেবল বস্তুগত সুখ-শান্তিতে সন্তুষ্ট থাকে না; তাদের মধ্যে সংগ্রামের আকাঙ্ক্ষাও বিদ্যমান। বর্তমানের ডান ও বামপন্থীদের উগ্র পপুলিস্ট রাজনীতি মূলত সেই সংঘাতমুখী প্রবণতারই বহিঃপ্রকাশ।
ভবিষ্যতের প্রধান বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জসমূহ
-
উগ্র রাজনৈতিক মেরুকরণ: বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের মতো গণতান্ত্রিক দেশে রাজনৈতিক বিদ্বেষ ও পারস্পরিক আস্থার অভাব গঠনমূলক নীতি নির্ধারণকে বাঁধাগ্রস্ত করছে।
-
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রভাব: এআই تکنোলজি মধ্যবিত্ত শ্রেণীর কর্মসংস্থান কমিয়ে বৈষম্য বৃদ্ধি করতে পারে এবং মানুষের আত্মমর্যাদাকে হুমকির মুখে ফেলতে পারে।
-
জৈবপ্রযুক্তি ও মানবাধিকার: বায়োটেকনোলজির অতিরিক্ত বিকাশ মানুষের জিনগত কাঠামো বদলে দিয়ে মানুষের মৌলিক পরিচয় ও মানবাধিকারের ধারণাকে ঝুঁকিতে ফেলতে পারে।
-
আমলাতান্ত্রিক জটিলতা: অত্যাধিক প্রশাসনিক বিধিনিষেধের কারণে মৌলিক উন্নয়ন ও নীতি বাস্তবায়ন ধীরগতির হয়ে পড়ছে।
অনলাইন ডেস্ক 

























