
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) প্রকল্প পরিচালক (পিডি) মোহাম্মদ আতিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, কোটি কোটি টাকার দুর্নীতি, অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং পরকীয়ার মতো গুরুতর নৈতিক স্খলনের অভিযোগ উঠেছে।
বিগত সরকারের আমলে প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের ছত্রছায়ায় বিপুল অর্থ আত্মসাৎ করেও বর্তমানে তিনি এলজিইডির অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘রিভার’ (RIVER) প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক পদে বহাল রয়েছেন, যা নিয়ে সংস্থার সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযোগের মূল বিষয়সমূহ:
-
রাজনৈতিক প্রভাব ও সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ: সাবেক বরিশাল জেলা নির্বাহী প্রকৌশলী থাকাকালে তৎকালীন রাজনৈতিক প্রভাবশালী নেতা আবুল হাসনাত আবদুল্লাহ ও সিটি মেয়রের ঘনিষ্ঠতা কাজে লাগিয়ে তিনি একচ্ছত্র প্রভাব বিস্তার করেন। একটি নিজস্ব শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে তুলে ঠিকাদারদের সঙ্গে যোগসাজশে কাজ না করেই ভুয়া বিল-ভাউচারের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
-
গুরুত্বপূর্ণ পদে পদায়ন: এত অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও অদৃশ্য শক্তির জোরে তিনি বর্তমানে ঢাকা সদর দপ্তরের ওয়ার্কশপ ভবনের লেভেল-৩ এ অবস্থিত ‘Resilient Infrastructure for Adaptation and Vulnerability Reduction’ (RIVER) প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক (পিডি) পদটি হাসিল করে নেন।
-
অবৈধ সম্পদ অর্জন: ঘুষ ও দুর্নীতির মাধ্যমে উপার্জিত অর্থ দিয়ে তিনি দেশ-বিদেশে নামে-বেনামে অঢেল সম্পদ গড়ে তুলেছেন। বর্তমানে তার স্ত্রী ও সন্তান যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন এবং সেখানে বিপুল পরিমাণ সম্পত্তি গড়ে তোলা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
-
নৈতিক স্খলন ও ব্যক্তিগত বিতর্ক: শুধু আর্থিক দুর্নীতিই নয়, তার বিরুদ্ধে পরকীয়ার গুরুতর অভিযোগও রয়েছে। নিজ সহকর্মী নরসিংদীর নির্বাহী প্রকৌশলী ফুলকাম বাদশার থাইল্যান্ড প্রবাসী স্ত্রীর সাথে পরকীয়ায় জড়ানো এবং নিয়মিত থাইল্যান্ড যাতায়াতের অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া বিভিন্ন অভিজাত হোটেলে বিলাসী জীবনযাপনের বিষয়টিও চর্চায় এসেছে।
এলজিইডির সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সংশ্লিষ্টদের মতে, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) যথাযথ তদন্ত চালালেই আতিকুল ইসলামের থাইল্যান্ড ও যুক্তরাষ্ট্র কেন্দ্রিক সমস্ত অবৈধ সম্পদের থলে বের হয়ে আসবে।
অনলাইন ডেস্ক 

























