
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের টানা অর্থনৈতিক চাপ ও কঠোর নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও সরকার এবং দেশটির জনগণ ঐক্যবদ্ধ থাকবে বলে দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। পেজেশকিয়ানের মতে, দেশের ভেতরে যেকোনো ধরনের বিভেদ সৃষ্টির চক্রান্ত বানচাল করতে জাতীয় ঐক্যই প্রধান হাতিয়ার। খবর আল জাজিরার।
গত মাসে ওয়াশিংটন ইরানের বিরুদ্ধে তথাকথিত ‘ইকোনমিক ডি-ডে’ ঘোষণা করে, যা যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে অন্যতম কঠোর নিষেধাজ্ঞা ব্যবস্থা। মূলত ইরান সরকার ও ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) আয়ের পথ সম্পূর্ণ অবরুদ্ধ করতেই ওয়াশিংটনের এই পদক্ষেপ।
তবে প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, বাহ্যিক এই অর্থনৈতিক চাপে ইরান তার মূল নীতি থেকে বিন্দুমাত্র পিছু হটবে না। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেন, শত্রুপক্ষ মূলত অর্থনৈতিক অবরোধ ও যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি করে দেশের অভ্যন্তরীণ স্থায়িত্ব বিনষ্ট করতে চায়।
কর্মকর্তাদের উদ্দেশে দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘যুদ্ধ ও কঠোর নিষেধাজ্ঞাকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে শত্রুরা আমাদের মাঝে বিভাজন ও অস্থিরতা তৈরি করতে চাইছে।’
জ্বালানি সংকট ও পেজেশকিয়ানের সতর্কতা
সাম্প্রতিক এই অর্থনৈতিক টানাপোড়েনের মাঝে জ্বালানি খাত নিয়ে নতুন বার্তা দিয়েছেন পেজেশকিয়ান। তিনি জানান, ব্যাপক চোরাচালান, অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি ও জ্বালানি অপচয়ের কারণে দীর্ঘদিন ধরেই দেশে তীব্র জ্বালানি সংকট চলছে। এই সংকট মোকাবিলায় আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ব্যক্তিগত গাড়ির তিন স্তরের পেট্রল কোটার একটি স্তরের দাম দ্বিগুণ করা হতে পারে। একই সাথে কমিয়ে আনা হতে পারে মাসিক পেট্রল কোটার পরিমাণও।
তবে দেশের বর্তমান নাজুক অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে জনগণের ওপর বাড়তি চাপের প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তিনি। টেলিভিশনে দেওয়া এক বক্তব্যে পেজেশকিয়ান বলেন, ‘সাধারণ মানুষ এমনিতেই প্রচণ্ড অর্থনৈতিক চাপে রয়েছে। তাদের ওপর আরও চাপ চাপিয়ে দিলে তা সহনশীলতার সীমা ছাড়িয়ে যেতে পারে।’
পেজেশকিয়ানের এই বক্তব্যে উঠে এসেছে ২০১৯-২০ সালের প্রেক্ষাপট, যখন হঠাৎ জ্বালানির দাম বৃদ্ধির জেরে ইরানজুড়ে তীব্র সরকারবিরোধী আন্দোলন ছড়িয়ে পড়েছিল। জ্বালানির দাম পুনর্নির্ধারণ করা হলে পণ্য পরিবহন ও নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধির মাধ্যমে মূল্যস্ফীতি আরও লাগামহীন হতে পারে বলে ধারণা করছেন বিশেষজ্ঞরা।
রেকর্ড তলানিতে ইরানি রিয়াল
এমনিতেই মূল্যস্ফীতিতে নাকাল ইরানিদের ওপর চাপ আরও বাড়িয়ে শনিবার তেহরানের বাজারে স্থানীয় মুদ্রা ‘রিয়াল’-এর মান রেকর্ড পরিমাণে নেমে গেছে। সপ্তাহের প্রথম কর্মদিবসে খোলা বাজারে ১ মার্কিন ডলারের বিনিময় মূল্য ২২ লাখ ৫০ হাজার রিয়াল অতিক্রম করে।
অনলাইন ডেস্ক 

























