
ভারতের উত্তরপ্রদেশের সাহারানপুরে জেলা সরকারি কার্যালয় চত্বরে অবস্থিত একটি দীর্ঘদিনের মসজিদ গুঁড়িয়ে দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। আদালতের নির্দেশ বাস্তবায়নের কথা বলে শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) শেষ রাতে এই উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়। তবে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্যজুড়ে ব্যাপক রাজনৈতিক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। অল ইন্ডিয়া মজলিস-ই-ইত্তেহাদুল মুসলিমিন (AIMIM) প্রধান ও হায়দরাবাদের সংসদ সদস্য আসাদউদ্দিন ওয়াইসি এ ঘটনায় তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে একে মুসলমানদের ধর্মীয় স্থানের ওপর ‘বাছাইকৃত আক্রমণ’ বলে অভিহিত করেছেন।
প্রশাসনের দাবি বনাম ওয়াইসির যুক্তি
সাহারানপুর জেলা প্রশাসনের ভাষ্যমতে, ৩১৫ বর্গমিটার সরকারি জমি বেআইনি দখল করে মসজিদটি গড়ে উঠেছিল। আইনি প্রক্রিয়া ও আদালতের স্পষ্ট নির্দেশ অনুসরণ করেই স্থাপনাটি সরানো হয়েছে। এর আগে গত জুলাইয়ে সিটি ম্যাজিস্ট্রেট মসজিদটি অপসারণের পাশাপাশি প্রায় ৬ কোটি ৪১ লাখ টাকা জরিমানার নির্দেশ দিয়েছিলেন, যা পরে জেলা আদালতেও বহাল থাকে।
অন্যদিকে, ওয়াইসি বেশ কিছু তথ্য তুলে ধরে প্রশাসনের এই পদক্ষেপের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন:
-
ঐতিহাসিক নথি: ১৯১১ সালের পুরোনো সরকারি নথি অনুযায়ী, জেলা প্রশাসকের কার্যালয় গড়ে ওঠার বহু আগে থেকেই সেখানে মসজিদটির অস্তিত্ব ছিল।
-
আইনি ও ওয়াক্ফ মর্যাদা: বহু বছর ধরে নিয়মিত ধর্মীয় কাজ পরিচালিত হওয়ায় আইন অনুযায়ী জায়গাটি ওয়াক্ফ সম্পত্তি এবং দীর্ঘমেয়াদি দখলের ভিত্তিতে সুরক্ষা পাওয়ার দাবি রাখে।
-
ন্যায়বিচারের অভাব: মসজিদ কমিটিকে উচ্চতর আদালতে আপিল করার বা আইনি প্রতিকার নেওয়ার ন্যূনতম সুযোগ না দিয়েই তড়িঘড়ি করে ভোরের আলো ফোটার আগে তা ভেঙে ফেলা হয়েছে।
রাজনৈতিক উত্তাপ ও নির্বাচনের সমীকরণ
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে ওয়াইসি প্রশ্ন তোলেন—সংবিধানে দেওয়া ধর্মীয় স্বাধীনতার অধিকার কি মুসলিমদের জন্য প্রযোজ্য নয়? তিনি অভিযোগ করেন, বিজেপি সরকার বেছে বেছে মসজিদ, দরগাহ ও কবরস্থানকে নিশানা করছে এবং মুসলিমদের অস্তিত্বের প্রতি বিদ্বেষ থেকে এসব পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
ওয়াইসি জানিয়েছেন, তার দল সাংবিধানিক ও রাজনৈতিকভাবে এর বিরুদ্ধে লড়াই করবে। উত্তরপ্রদেশে ২০২৭ সালের বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে ধর্মীয় স্থাপনা ভাঙার এই ঘটনা রাজ্য রাজনীতিতে আরও বড় বিতর্ক ও উত্তাপ ছড়াবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
অনলাইন ডেস্ক 

























