
হরমুজ প্রণালির একটি নির্দিষ্ট অংশে নতুন করে বিধিনিষেধ ও কড়াকড়ি আরোপের চিন্তা করছে ইরান। যুক্তরাষ্ট্রের সান ফ্রান্সিসকো বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক স্টিফেন জুনেসের মতে, এই সিদ্ধান্তের নেপথ্যে মূলত দুটি প্রধান কারণ কাজ করছে—ওমানের সঙ্গে নৌচলাচলসংক্রান্ত একটি সম্ভাব্য চুক্তি এবং ওয়াশিংটনের ওপর মনস্তাত্ত্বিক চাপ সৃষ্টি।
পদক্ষেপটির মূল কারণ ও কৌশল
-
ওমান-ইরান সমঝোতা: ওমানের সঙ্গে ইরানের নৌপথ ব্যবহারসংক্রান্ত একটি দ্বিপক্ষীয় আলোচনা বা চুক্তি বিবেচনাধীন রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র যদি এই সমঝোতাকে স্বীকৃতি দেয় ও মেনে নেয়, তবে ইরান হয়তো বিধিনিষেধের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসতে পারে।
-
যুক্তরাষ্ট্রের ওপর চাপ প্রয়োগ: চুক্তিটি ব্যর্থ হলে ওয়াশিংটনকে নতিস্বীকারে বাধ্য করতে তেহরান নতুন কৌশলগত সংকট তৈরি করতে চায়। বিধিনিষেধ আরোপের পরিকল্পনা মূলত সেই কৌশেরই অংশ।
সম্ভাব্য ঝুঁকি ও বৈশ্বিক প্রভাব
-
মার্কিন বাহিনীর ওপর বাড়তি চাপ: হরমুজ প্রণালিতে নতুন কোনো নিষিদ্ধ এলাকা গঠিত হলে বিশ্বজুড়ে এমনিতেই চাপে থাকা মার্কিন সেনাদের নজরদারি ও পাহারা আরও বাড়াতে হবে, যা তাদের জন্য বাড়তি বোঝা হয়ে দাঁড়াবে।
-
নৌপরিবহন ও বিমা খাতের অনিশ্চয়তা: নিরাপত্তা ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক নৌপরিবহন সংস্থাগুলো এই রুট ব্যবহারে দ্বিধায় পড়বে। পাশাপাশি বিমা কোম্পানিগুলোও এ অঞ্চলে জাহাজ চলাচলের ঝুঁকি নিতে অনিচ্ছা প্রকাশ করতে পারে।
উপসাগরীয় দেশগুলোর ভূমিকা ও অবস্থান
-
আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা: মধ্যপ্রাচ্যের প্রতিবেশী দেশগুলোর মূল লক্ষ্য আঞ্চলিক উত্তেজনা হ্রাস করা। ইরান ও ওমানের সমঝোতায় যদি আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক ও সুরক্ষিত থাকে, তবে তা পুরো অঞ্চলের জন্য ইতিবাচক হবে।
-
ট্রানজিট ফি ও শুল্কের বিষয়টি: এই অঞ্চলের নিরাপত্তা নিশ্চিত হলে উপসাগরীয় দেশগুলো প্রয়োজনীয় ট্রানজিট ফি দিতেও রাজি হতে পারে, যদিও যুক্তরাষ্ট্র নীতিগতভাবে এর বিরোধিতা করবে। ওমানসহ অন্যান্য প্রতিবেশী দেশের মধ্যকার অভ্যন্তরীণ আলোচনা এই পুরো প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
অনলাইন ডেস্ক 

























