
চিত্রনায়ক সালমান শাহ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার অভিনেতা আশরাফুল হক ডন পাঁচদিনের রিমান্ড শেষে আদালতের নির্দেশে কারাগারে প্রেরিত হয়েছেন। মামলার তদন্তকারী সংস্থা পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) অভিযোগ করেছে, রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ চলাকালে তিনি বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য কৌশলে গোপন করেছেন।
বুধবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানা তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের ভিত্তিতে ডনকে কারাগারে পাঠানোর এই আদেশ দেন। প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই শাহ আলম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, আদালতে ডনের পক্ষে কোনো জামিন আবেদন উপস্থাপন করা হয়নি।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির ইন্সপেক্টর মজিবুর রহমান আদালতকে জানান, ডন ও সালমান শাহ দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন এবং ১৯৯২ থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত তাঁরা একাধিক চলচ্চিত্রে একসঙ্গে কাজ করেছেন। সালমান শাহর জীবনযাপন ও ঘটনাবলী সম্পর্কে সম্যক ধারণা থাকা সত্ত্বেও, ঘটনার পেছনে জড়িত অন্যান্য আসামিদের বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদে তিনি চতুরতার আশ্রয় নিচ্ছেন। তবে তাঁর বিভিন্ন বক্তব্য ও চালচলনে ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার বহু আলামত পাওয়া যাচ্ছে, যা বর্তমানে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। প্রয়োজনে পরবর্তীতে তাকে আবারও রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের সুযোগ চাওয়া হতে পারে।
এর আগে গত ৯ আগস্ট শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ডনকে গ্রেপ্তার করে ইমিগ্রেশন পুলিশ। পরে তাঁকে সিআইডির কাছে হস্তান্তর করা হয়। সিআইডির আবেদনের প্রেক্ষিতে গত ২৭ আগস্ট আদালত তাঁর পাঁচদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছিলেন।
দীর্ঘ আইনি লড়াই ও মামলার প্রেক্ষাপট
১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর রাজধানীর ইস্কাটনের বাসভবন থেকে চিত্রনায়ক সালমান শাহর লাশ উদ্ধার করা হয়। তৎকালীন সময়ে তাঁর বাবা কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরী একটি অপমৃত্যু মামলা করেন। পরবর্তীতে ১৯৯৭ সালে এটিকে হত্যা মামলায় রূপান্তরের আবেদন জানানো হয়।
বিগত প্রায় তিন দশকে একাধিক সংস্থার তদন্তে বিভিন্ন সিদ্ধান্ত এসেছে:
-
সিআইডির প্রতিবেদন (১৯৯৭): প্রথম তদন্ত শেষে সিআইডি ঘটনাটিকে ‘আত্মহত্যা’ উল্লেখ করে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেয়, যা সালমানের পরিবার প্রত্যাখ্যান করে।
-
বিচার বিভাগীয় তদন্ত (২০১৪): দীর্ঘ ১১ বছর পর দাখিল করা প্রতিবেদনেও হত্যাকাণ্ডের প্রমাণ মেলেনি বলে জানানো হয়। সালমানের মা নীলা চৌধুরী এই প্রতিবেদনে নারাজি দিয়ে ১১ জনের নাম উল্লেখ করেন।
-
পিবিআইয়ের প্রতিবেদন (২০২০): পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ৫৪ জন সাক্ষীর জবানবন্দি বিশ্লেষণ করে জানায়, পারিবারিক ও মানসিক টানাপোড়েন থেকে সালমান শাহ আত্মহত্যা করেছিলেন।
-
আদালতের সর্বশেষ নির্দেশ: পিবিআইয়ের প্রতিবেদন ও আসামিদের অব্যাহতির আদেশের বিরুদ্ধে রিভিশন আবেদন করা হলে, গত বছরের অক্টোবরে আদালত তা মঞ্জুর করেন। এর ধারাবাহিকতায় সালমানের মামা মোহাম্মদ আলমগীর কুমকুম নতুন করে হত্যা মামলা দায়ের করেন, যার তদন্ত বর্তমানে পরিচালনা করছে সিআইডি।
অনলাইন ডেস্ক 

























