
জন্মের পর থেকেই জটিল হৃদরোগের সঙ্গে যুদ্ধ করছিলেন। শত সীমাবদ্ধতা জয় করে ২০২৪ সালে অর্জন করেছিলেন ‘মিস অস্ট্রিয়া’র খেতাব। কিন্তু মাত্র ২২ বছর বয়সেই থেমে গেল সেই অদম্য জীবনসংগ্রাম। অকালপ্রয়াণ ঘটল মিশন অস্ট্রিয়ার অন্যতম জনপ্রিয় এই বিউটি কুইনের।
লুসিয়া সিসিকের মৃত্যুর খবরটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিশ্চিত করেছে সৌন্দর্য প্রতিযোগিতা পরিচালনাকারী সংস্থা ‘মিশন অস্ট্রিয়া’। তার এই আকস্মিক বিয়োগে গভীর শোক প্রকাশ করে তাকে একজন ‘অত্যন্ত সাহসী ও অসাধারণ তরুণী’ হিসেবে অভিহিত করেছে সংগঠনটি। চিকিৎসাজনিত জটিলতায় তার মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হলেও, পরিবার বা আয়োজকদের পক্ষ থেকে নির্দিষ্ট কারণ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে স্পষ্ট করা হয়নি।
অসুস্থতাকে জয় করে গড়েছিলেন দৃষ্টান্ত শৈশব থেকেই হৃদযন্ত্রের গুরুতর সমস্যায় ভুগছিলেন লুসিয়া। অন্যান্য শিশুদের মতো স্বাভাবিক খেলাধুলা কিংবা দৌড়ঝাঁপ করার সুযোগ ছিল না তার। তবে এই শারীরিক সীমাবদ্ধতা তার মনোবল ভেঙে দিতে পারেনি।
নিজের শারীরিক লড়াইয়ের গল্প কখনোই লুকিয়ে রাখেননি লুসিয়া; বরং সামাজিক মাধ্যমে সেসব শেয়ার করে অনুপ্রাণিত করতেন ভক্তদের। মৃত্যুর আগে এক পোস্টে তিনি জানান, জন্মের পরপরই তার শরীরে প্রথম জটিল অস্ত্রোপচার করা হয়। চিকিৎসকদের অক্লান্ত পরিশ্রম ও চেষ্টার কারণেই তিনি এতদিন স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পেরেছিলেন বলে গভীর কৃতজ্ঞতাও প্রকাশ করেছিলেন।
লুসিয়ার এই অনুপ্রেরণাদায়ী যাত্রার বড় স্বীকৃতি আসে ২০২৪ সালে, যখন তিনি ‘মিস অস্ট্রিয়া’ নির্বাচিত হন। পরবর্তী কোনো প্রতিযোগিতা না হওয়ায় মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনিই ছিলেন এই খেতাবের বিশ্বস্ত অধিকারী।
তার এই অকাল প্রয়াণে শোক প্রকাশ করেছে অস্ট্রিয়ার হৃদরোগে আক্রান্ত শিশুদের সহায়তাকারী সংস্থা ‘হার্জকিন্ডার অস্ট্রিয়া’সহ দেশের বিভিন্ন মহল। মাত্র ২২ বছরের ছোট জীবনে তিনি যে সাহস ও সংগ্রামের দৃষ্টান্ত রেখে গেছেন, তা স্মরণ করবে অস্ট্রিয়াবাসী।
অনলাইন ডেস্ক 

























