
দীর্ঘ দুই বছরেরও বেশি সময় বন্ধ থাকার পর অবশেষে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য আবারো খুলতে যাচ্ছে মালয়েশিয়ার জনশক্তি রপ্তানির পথ। চলতি অক্টোবর মাসের দ্বিতীয়ার্ধেই নতুন কর্মী নিয়োগের মূল কার্যক্রম শুরু হতে পারে। ইতিমধ্যে মালয়েশিয়ার নিয়োগকর্তারা বাংলাদেশি রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোকে চাহিদাপত্র দেওয়া শুরু করেছেন এবং লেভি পরিশোধসহ ‘ফরেন ওয়ার্কার্স সেন্ট্রালাইজড ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমে’ (এফডব্লিউসিএমএস) অন্তর্ভূক্তির কাজও চলছে।
প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় ও রিক্রুটিং এজেন্সি সূত্রে জানা গেছে, গত ২৫ সেপ্টেম্বর মালয়েশিয়া সরকারের পক্ষ থেকে বাংলাদেশ হাইকমিশনকে শ্রমবাজার পুনরায় চালুর সিদ্ধান্ত আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়। সিদ্ধান্তের অংশ হিসেবে আগামী ২০ অক্টোবর থেকে সরকারি প্রতিষ্ঠান ‘বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেড’ (বোয়েসেল) এফডব্লিউসিএমএসে রিক্রুটিং এজেন্সি হিসেবে কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে।
আটকে পড়া কর্মীদের অগ্রাধিকার ও বিনা খরচে কর্মী প্রেরণ মালয়েশিয়া যাওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হলেও আগের আটকে পড়া কর্মীদের বিষয়টি আগে সমাধান করতে চায় বোয়েসেল। ২০২৪ সালের ৩১ মে মালয়েশিয়া যেতে ব্যর্থ হওয়া বাকি থাকা ১২০ থেকে ১৫০ জন আটকে পড়া কর্মীকে ১৬ অক্টোবরের মধ্যে পাঠানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
বোয়েসেলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাশেদুল হক জানান, “আমাদের প্রধান অগ্রাধিকার হচ্ছে আগের আটকে পড়া কর্মীদের আগে পাঠানো। এই প্রক্রিয়া শেষ করার পরেই নতুন কর্মী পাঠানোর বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।” এছাড়া বোয়েসেলের মাধ্যমে বিনা খরচে ১০ হাজার কর্মী পাঠানোর পরিকল্পনাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে, যার জন্য ইতিমধ্যে ১৬টি চাহিদাপত্র এসে পৌঁছেছে।
চাহিদাপত্র ও মেডিকেল সেন্টারের প্রস্তুতি ইতিমধ্যে নতুন করে প্রায় ৮ হাজার কর্মীর চাহিদাপত্র অনুমোদন পেয়েছে। এর মধ্যে গত মাসে এফডব্লিউসিএমএসের ই-অ্যাম্বাসি মডিউলে ২১টি আবেদনের মাধ্যমে ৮৯৫ জন কর্মীর চাহিদাপত্র সত্যায়নের জন্য জমা দেওয়া হয়।
কর্মী প্রেরণের সুবিধার্থে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য বর্তমান ১৭টি অনুমোদিত মেডিকেল সেন্টারের পাশাপাশি আরও ১৪টি নতুন কেন্দ্রকে অনুমোদন দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
সিন্ডিকেট বিতর্ক ও এজেন্সি তালিকা মালয়েশিয়ার বিদেশি কর্মী নিয়োগের প্ল্যাটফর্ম এফডব্লিউসিএমএসে বর্তমানে ৩৩৮টি বাংলাদেশি এজেন্সির তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। এর মধ্যে মূল ২৫টি এজেন্সির অধীনে ২৫০টি এবং সরকারি বোয়েসেলের অধীনে ৬২টি সহযোগী এজেন্সি হিসেবে যুক্ত রয়েছে।
তবে চাহিদাপত্র মিললেও স্বাস্থ্য পরীক্ষা, প্রশিক্ষণ ও চূড়ান্ত নির্বাচন বিষয়ে সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা না থাকায় রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর মধ্যে কিছুটা অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। বায়রা সদস্য ফরিদ আহমদ মজুমদার জানান, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কর্মী পাঠানো সম্ভব না হলে নিয়োগকর্তারা অন্য দেশের দিকে ঝুঁকতে পারেন।
এ বিষয়ে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী জানান, এখনই কোনো মন্তব্য না করলেও খুব শিগগির মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ইতিবাচক ঘোষণা দেওয়া হবে।
অনলাইন ডেস্ক 

























