
বিশ্বজুড়ে জ্বালানির লাগামহীন দাম নিয়ন্ত্রণে আনাসহ বাজার স্থিতিশীল করতে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে শিল্পোন্নত দেশগুলোর জোট ‘জি-৭’। আগামী চার মাসে নিজেদের জরুরি রিজার্ভ থেকে ১০ কোটি ব্যারেল অপরিশোধিত তেল ও ডিজেল বাজারে ছাড়ার যৌথ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে জোটভুক্ত দেশগুলো।
সম্প্রতি ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর উদ্যোগে আয়োজিত জি-৭ নেতাদের এক জরুরি ভিডিও কনফারেন্সের পর এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের কথা নিশ্চিত করা হয়। আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার (আইইএ) মাধ্যমে অবিলম্বে এই সরবরাহ প্রক্রিয়া বাস্তবায়িত হবে বলে প্যারিস থেকে প্রকাশিত এক যৌথ বিবৃতিতে জানানো হয়েছে। একইসঙ্গে সদস্য দেশগুলোর মধ্যে জ্বালানি রপ্তানিতে কোনো ধরনের বিধিনিষেধ না চাপানোর বিষয়েও একমত হয়েছেন বিশ্বনেতারা।
ওয়াশিংটনের চাপ ও ইউরোপের প্রতিক্রিয়া
এই সিদ্ধান্তের নেপথ্যে কাজ করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় দেশগুলোর কূটনৈতিক টানাপোড়েন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর দেশের জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় ইউরোপীয় মিত্রদের—বিশেষ করে ফ্রান্স ও জার্মানিকে—নিজেদের জরুরি ডিজেল মজুত উন্মুক্ত করার জন্য জোর তাগিদ দিয়ে আসছিলেন। এমনকি ইউরোপ যদি নিজেদের মজুত বাজারে না ছাড়েন, তবে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ডিজেল রপ্তানি পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়েছিল।
মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে যুক্তরাষ্ট্রে তেলের দাম সহনীয় পর্যায়ে রাখা ট্রাম্প প্রশাসনের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার। ওয়াশিংটনের এমন কঠোর অবস্থানের মুখে ফ্রান্সের তরফ থেকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও পরে জি-৭ জোটের কাছে জরুরিভিত্তিতে রিজার্ভ ব্যবহারের যৌথ প্রস্তাব দেওয়া হয়, যা শেষ পর্যন্ত সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হলো।
সিদ্ধান্তের পর সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ লেখেন, “ইউরোপ তাদের বিপুল মজুতকৃত ডিজেল বাজারে ছাড়তে রাজি হয়েছে এবং এই প্রক্রিয়া অবিলম্বে কার্যকর করা হচ্ছে।”
উল্লেখ্য, ব্রিটেন, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, কানাডা, জাপান ও যুক্তরাষ্ট্র—এই সাতটি দেশ নিয়ে গঠিত জি-৭ জোটের সমন্বিত এই উদ্যোগে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করছেন অর্থনীতিবিদরা।
অনলাইন ডেস্ক 

























