
যুক্তরাজ্যের আরএএফ ফেয়ারফোর্ড (RAF Fairford) ঘাঁটি থেকে প্রায় এক ডজন বি-ওয়ান (B-1) বোমারু বিমান আমেরিকায় ফিরিয়ে নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। সুনির্দিষ্ট কিছু ‘হুমকির’ কারণেই সংবেদনশীল ও ব্যয়বহুল এই বিমানগুলো সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
ঘটনার প্রেক্ষাপট ও ট্রাম্পের বক্তব্য
হোয়াইট হাউস থেকে নেব্রাস্কার উদ্দেশে রওনা হওয়ার সময় ট্রাম্প জানান, একটি সম্ভাব্য হুমকি সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়ার পরই বোমারু বিমানগুলো নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার দ্রুত উদ্যোগ নেওয়া হয়। তিনি মন্তব্য করেন:
“এগুলো তো আর দুর্ঘটনাক্রমে উড়ে যায়নি, কিছু হুমকি ছিল। শত্রুকে উসকানি না দিয়ে আমরা তাদের পরাজিত করব। তবে ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে বিমানগুলো ফেলে রাখার কোনো মানে হয় না।”
তিনি আরও জানান, হুমকি তৈরি করা পক্ষকে ওয়াশিংটন চেনে, যদিও তিনি প্রকাশ্যে কারো নাম উল্লেখ করেননি। পেন্টাগন ইতিমধ্যে নিশ্চিত করেছে যে ফেয়ারফোর্ডে থাকা বি-ওয়ান বিমানগুলো নিরাপদে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে এসেছে।
হুমকির মূল উৎস কী, সে বিষয়ে ওয়াশিংটন বা লন্ডন থেকে স্পষ্টভাবে কিছু বলা হয়নি। তবে বিবিসি’র তথ্য অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের সাথে নতুন করে তৈরি হওয়া উত্তেজনার মাঝে ঘাঁটিতে অন্তর্ঘাতমূলক কর্মকাণ্ড (স্যাবোটাজ) বা প্রত্যক্ষ হামলার শঙ্কা তৈরি হয়েছিল।
হোয়াইট হাউসের এক ঘনিষ্ঠ সূত্র বিষয়টি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে গত বছর জুনে রাশিয়ার পাঁচটি ঘাঁটিতে ইউক্রেনের গোপন ড্রোন হামলা—’অপারেশন স্পাইডারওয়েব’-এর উদাহরণ দেয়। সূত্রটির মতে, শত্রু পক্ষ দূর থেকেও যেকোনো বড় ধরনের হামলা চালাতে পারে এবং বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখা হয়েছে।
হুমকির খবর ছড়ালেও ১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিট (ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়) থেকে জানানো হয়েছে যে, আরএএফ ফেয়ারফোর্ড সম্পূর্ণ নিরাপদ।
উল্লেখ্য, গত ২৭শে সেপ্টেম্বর এই বিমানঘাঁটির কাছে তিনটি ‘সন্দেহজনক যানবাহন’ পাওয়ার পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সতর্ক করা হয়। পরবর্তীতে সন্ত্রাসবিরোধী পুলিশ ইউনিটের তদন্তে প্রথমে পাঁচজনকে এবং পরে একজন ব্রিটিশ-ইরানি নাগরিককে গ্রেফতার করা হয়। তাদের জামিনে মুক্তির পর ট্রাম্প সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেন এবং ইরানি সংশ্লিষ্টতার ইঙ্গিত দেন। প্রিমিয়ার অ্যান্ডি বার্নহামও এতে ইরানের সংশ্লিষ্টতার ‘শক্তিশালী ইঙ্গিত’ রয়েছে বলে জানান। তবে তেহরান এই অভিযোগ জোরালোভাবে অস্বীকার করেছে।
বিমান অপসারণের কারণ নিয়ে মার্কিন প্রশাসনের শীর্ষ কর্তাদের বক্তব্যে কিছু দ্বিমত দেখা গেছে
তারা দুজনেই নির্দিষ্ট হুমকি এবং ‘অতিরিক্ত সতর্কতা’ বজায় রাখার স্বার্থে এই পদক্ষেপের কথা বলেছেন। ভ্যান্স উল্লেখ করেন, ওয়াশিংটন মনে করে ইরান বিশ্বজুড়ে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের ধারাবাহিকতা বজায় রাখছে।
মার্ক রুবিও (পররাষ্ট্রমন্ত্রী): রুবিও সরাসরি গত সপ্তাহের ঘটনামূলকের সাথে বিমান সরিয়ে নেওয়াকে যুক্ত করতে রাজি হননি। তিনি এটিকে নিয়মিত সামরিক “মহড়া, পুনর্বিন্যাস বা কর্মী ও সরঞ্জাম পরিবর্তন” হিসেবে উল্লেখ করে যুক্তরাজ্যের নিরাপত্তার ওপর পূর্ণ আস্থার কথা জানান।
গ্লুচেস্টারশায়ারে অবস্থিত এই রাজকীয় বিমানঘাঁটিটি দীর্ঘদিন ধরে মার্কিন বিমান বাহিনীর একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রবর্তী পরিচালন ঘাঁটি (Forward Operating Location) হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। মধ্যপ্রাচ্যে বা ইরানের বিরুদ্ধে যেকোনো কার্যক্রমে বি-ওয়ান এবং বি-৫২ বোমারু বিমান চলাচলের জন্য এটি অত্যন্ত কৌশলগত কেন্দ্র ছিল।
রয়্যাল ইউনাইটেড সার্ভিসেস ইনস্টিটিউটের (RUSI) প্রতিরক্ষা গবেষণা বিশ্লেষক ক্রিস্টোফ বার্গস জানান:
ফেয়ারফোর্ড থেকে বোমারু বিমান সরিয়ে নেওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যে বা ইরানের বিরুদ্ধে দ্রুত সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার মার্কিন সক্ষমতা কিছুটা সাময়িকভাবে ধীরগতির হতে পারে।
আকাশে জ্বালানি নেওয়ার ঝক্কি কমাতে যুক্তরাষ্ট্র হয়তো এসব বোমারু বিমান দিয়েগো গার্সিয়া বা উপসাগরীয় অঞ্চলের কোনো নিরাপদ ঘাঁটিতে স্থানান্তর করতে পারে।
অনলাইন ডেস্ক 

























