
মধ্যপ্রাচ্যের অস্থির নিরাপত্তাস্থিতি ও যুদ্ধজাহাজগুলোর নিয়মিত পরিবর্তন (রোটেশন) প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে মার্কিন নৌবাহিনী তাদের সামরিক উপস্থিতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে। ফক্স নিউজের বরাত দিয়ে আল মায়াদিন জানায়, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের একমাত্র সক্রিয় বিমানবাহী রণতরী বা এয়ারক্রাফট ক্যারিয়ার হিসেবে বর্তমানে আরব সাগরে অবস্থান করছে ‘ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটন’।
একই সঙ্গে দীর্ঘ সফর শেষে অঞ্চলে থাকা অন্য দুটি শক্তিশালী রণতরী স্থান পরিবর্তন করেছে:
ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন: প্রায় ২৬৫ দিনের দীর্ঘ ও মানসিক চাপযুক্ত মিশন শেষ করে এটি নিজ হোমপোর্ট যুক্তরাষ্ট্রের সান ডিয়াগোর উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছে।
ইউএসএস জর্জ এইচ ডাব্লিউ বুশ: নতুন মিশন ও নির্ধারিত সফর হিসেবে থাইল্যান্ডের ফুকেটের উদ্দেশ্যে আরব সাগর ত্যাগ করেছে।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)-এর তথ্যমতে, গত আগস্টে ‘আব্রাহাম লিংকন’-এর স্থলাভিষিক্ত হতে আরব সাগরে পৌঁছায় ‘জর্জ ওয়াশিংটন’। অন্যদিকে, ‘ইউএসএস বুশ’ ও এর সহযোগী ডেস্ট্রয়ার ‘ইউএসএস ডেলবার্ট ডি ব্ল্যাক’ থাইল্যান্ডে নোঙর করেছে, যা Seventh Fleet-এর মতে একটি পূর্বনির্ধারিত বন্দর সফর।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, ইয়েমেনের সশস্ত্র বাহিনীর হামলা এড়াতে সুয়েজ খাল ও লোহিত সাগরের সংক্ষিপ্ত পথ এড়িয়ে, আফ্রিকার উত্তমাশা অন্তরীপ ঘুরে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে আরব সাগরে প্রবেশ করেছিল বুশ। তবে মধ্যপ্রাচ্য থেকে এর বিদায় নিয়ে সেন্টকম বা Fifth Fleet এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতি দেয়নি।
সাত মাস আগে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরুর সময় এ অঞ্চলে যে পরিমাণ মার্কিন যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন ছিল, বর্তমানে তা কমে ১৭টিতে নেমে এসেছে। গত সেপ্টেম্বরের ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর অধিকাংশ মার্কিন জাহাজকে আরব সাগরে সরিয়ে নেওয়া হয়। বর্তমানে লোহিত সাগরে কেবল তিনটি গাইড-মিসাইল ডেস্ট্রয়ার দায়িত্ব পালন করছে।
২০২৫ সালের নভেম্বর থেকে মধ্যপ্রাচ্যে টানা দায়িত্ব পালন করা ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন’ সামরিক অবরোধ ও যুদ্ধাকাশে সক্রিয় ভূমিকা রাখে। তবে রেকর্ড সময় ধরে দীর্ঘ মোতায়েনের কারণে মার্কিন রাজনীতিক ও নাবিকদের পরিবারে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়। এতদিন সমুদ্রে টানা অবস্থান করায় নাবিকদের মধ্যে চরম বিষণ্ণতা ও মানসিক সমস্যা দেখা দেয়। বাহিনী সূত্রের খবর, এই মিশন চলাকালে লিংকন স্ট্রাইক গ্রুপের অন্তত ৮ জন সদস্য আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। সান ডিয়াগোতে ফেরার পথে সেপ্টেম্বরের শুরুতে জাহাজটি থাইল্যান্ডে কিছুদিনের জন্য যাত্রাবিরতি নেয়।
জর্জ ওয়াশিংটনের ওপর কাজের চাপ কমাতে গত ২৭ সেপ্টেম্বর সান ডিয়াগো থেকে রওনা হয়েছে ‘ইউএসএস থিওডোর রুজভেল্ট’। খুব শীঘ্রই এটি আরব সাগরে পৌঁছে জর্জ ওয়াশিংটনের সাথে যোগ দেবে বা দায়িত্ব ভাগ করে নেবে। এছাড়া নভেম্বরের শেষ দিকে ‘মেকিন আইল্যান্ড অ্যাম্ফিবিয়াস গ্রুপ’ এই অঞ্চলে পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
তবে সামরিক বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন যে, প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল থেকে ‘জর্জ ওয়াশিংটন’-কে সরিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে নিয়ে আসায় এশিয়া অঞ্চলে আমেরিকার অবস্থান কিছুটা দুর্বল হয়ে পড়েছে, যা চীনকে মোকাবিলা করার মার্কিন প্রস্তুতিতে নতুন চ্যালেঞ্জ বা ঘাটতি তৈরি করতে পারে।
অনলাইন ডেস্ক 

























