
বলিউড তারকা টাইগার শ্রফকে লক্ষ্য করে চালানো সুপরিকল্পিত হত্যাচেষ্টার ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য উন্মোচন করেছে মুম্বাই পুলিশ। জুহুতে ফুটবল খেলা শেষে ফেরার পথে এই অভিনেতার গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ার ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে রাজস্থানের কোটা থেকে তিন তরুণকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে এই হামলার পেছনে কুখ্যাত গ্যাংস্টার লরেন্স বিষ্ণোই চক্রের সরাসরি যোগসাজশের বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
হৃতিক ওরফে রৌশন (২২, বিহারের বেগমঙ্গরাই)
রেহান (১৮, হরিয়ানা)
ফুল সিং (১৮, হরিয়ানা)
তাদের বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টার মামলা দিয়ে মুম্বাইয়ে আনা হয়েছে। বর্তমানে বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চালাচ্ছে অ্যান্টি-এক্সটরশন সেল।
পুলিশের তদন্ত সূত্রে জানা গেছে, হামলার ঠিক আগে টাইগার শ্রফ যখন মাঠে ফুটবল খেলছিলেন, তখন শুটাররা একটি ছোট ভিডিও ধারণ করে তাদের হ্যান্ডলারকে পাঠায়। দূর থেকে সেই ভিডিও দেখে ‘সবুজ সংকেত’ পাওয়ার পরই অতর্কিতে গুলি চালায় তারা।
জুহুর ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ পাঁচটি ব্যবহৃত বুলেটের খোসা এবং দুটি তাজা কার্তুজ উদ্ধার করেছে। জানা গেছে, হামলার সময় রেহানের ব্যবহৃত আগ্নেয়াস্ত্রটি জ্যাম হয়ে যাওয়ায় তাজা কার্তুজগুলো মাটিতে পড়ে যায়। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে পুলিশ নিশ্চিত হয়েছে যে, অভিযুক্তরা বেশ কিছুদিন ধরে টাইগার শ্রফের দৈনন্দিন চলাফেরার ওপর কড়া নজরদারি (রেকি) চালিয়েছিল।
অপারেশন সফল হওয়ার পরপরই শুটাররা হ্যান্ডলারদের বার্তা পাঠিয়ে জানায় যে কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এরপর হামলাকারী পালিয়ে গেলে অনিল পণ্ডিত নামের এক হ্যান্ডলার ও তার সহযোগীরা গণমাধ্যমে খবরের অপেক্ষায় থাকেন। মিডিয়ায় খবর ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি অডিও বার্তা ও পোস্ট দিয়ে হামলার দায় স্বীকার করা হয়।
ভাইরাল হওয়া সেই অডিও বার্তায় অনিল পণ্ডিত নিজেকে লরেন্স বিষ্ণোইয়ের ছোট ভাইয়ের মতো দাবি করে বলেন, এই হামলার দায় তিনি এবং আরমান সান্ধু নিচ্ছেন। টাইগার শ্রফকে সতর্ক করার পরও কথা না শোনার অভিযোগ তুলে পুরো বলিউড ইন্ডাস্ট্রিকে খোলা হুমকি দেওয়া হয়। অডিওতে স্পষ্ট বলা হয়—লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংয়ের কথা অমান্য করলে কিংবা বলিউড তারকা সালমান খানের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক বা কাজ রাখলে কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।
তদন্তে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে এসেছে। জানা গেছে, এই তিন অভিযুক্তকে হামলার অগ্রিম হিসেবে মাত্র ৫০ হাজার রুপি দেওয়া হয়েছিল। কাজটি সফলভাবে শেষ করতে পারলে বড় অঙ্কের অর্থের পাশাপাশি তাদের বিদেশে পাঠিয়ে দেওয়ার প্রলোভনও দেখানো হয়েছিল। প্রায় দুই মাস আগে অমৃতসরে এক ব্যবসায়ীকে ভয় দেখানোর জন্য গুলিবর্ষণের ঘটনার সূত্র ধরেই হ্যান্ডলার অনিল পণ্ডিতের সঙ্গে অভিযুক্ত রেহানের যোগাযোগ তৈরি হয়, যেখান থেকেই টাইগার শ্রফকে হত্যার এই নীল নকশা তৈরি করা হয়েছিল।
অনলাইন ডেস্ক 

























