
জীবনযাত্রার চড়া ব্যয়, আবাসন সংকট, পেনশন বৈষম্য এবং যুদ্ধবিরোধী অবস্থানের জেরে ইউরোপজুড়ে ক্রমেই তীব্র হচ্ছে গণমানুষের অসন্তোষ। মিলান থেকে লিসবন—ইউরোপের বিভিন্ন দেশের রাজপথ এখন বিক্ষোভরত মানুষের স্লোগানে মুখর। কঠোর পুলিশি পাহারা, সরকারি নিষেধাজ্ঞা ও নিরাপত্তা বাহিনীর কড়াকড়ি উপেক্ষা করে রাজপথে নেমেছেন হাজার হাজার বিক্ষোভকারী।
ইউরো নিউজের এক সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে ইউরোপের অন্তত ছয়টি দেশে ছড়িয়ে পড়া এই তীব্র অস্থিরতার চিত্র উঠে এসেছে।
পূর্বের বিক্ষোভগুলোতে সহিংসতার রেকর্ড থাকায় এবার ইউরোপের বিভিন্ন দেশের রাজধানী ও গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলোতে বিপুলসংখ্যক পুলিশ এবং সেনাসদস্য মোতায়েন করেছে কর্তৃপক্ষ। তবে সব বাধা পেরিয়ে ফ্রান্সের বিভিন্ন শহরে পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হয়েছে। দেশটিতে প্রায় দুই হাজার চারশ’ মানুষকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং আহত হয়েছেন প্রায় এক হাজার নিরাপত্তা কর্মী। শুধু রাজধানী প্যারিসেই আহত হয়েছেন শতাধিক সাধারণ মানুষ ও বিক্ষোভকারী।
শনিবার আলবেনিয়ার রাজধানী তিরানায় হাজারো মানুষ সরকারবিরোধী বিক্ষোভে অংশ নেন। শিক্ষার্থী ও শিল্পীদের এই মিছিলে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। অক্টোবরের মাঝামাঝি সময় থেকে চলা এই সংঘর্ষের ধারাবাহিকতায় সম্প্রতি সরকারি ভবনে হামলার ঘটনা ঘটে। পুলিশ এ পর্যন্ত ডজন ডজন বিক্ষোভকারীকে আটক করেছে এবং সংঘাতে উভয় পক্ষে তিনশ’র বেশি মানুষ আহত হয়েছেন।
মিলান, রোম, তুরিন, নেপলস, বোলোনিয়া ও ফ্লোরেন্সের মতো ইতালির প্রধান শহরগুলোও উত্তাল হয়ে উঠেছে। বিক্ষোভকারীদের একাংশ পুলিশকে লক্ষ্য করে বোতল, পাথর ও আতশবাজি নিক্ষেপ করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ অন্তত ৯ জনকে সরাসরি গ্রেফতার এবং ৩৭১ জনকে সাময়িকভাবে আটক করেছে; যার মধ্যে ১১০ জনই অপ্রাপ্তবয়স্ক।
ইউরোপের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের দেশগুলোতেও প্রতিবাদের ভাষা ভিন্ন রূপ নিয়েছে। স্পেনের রাজধানী মাদ্রিদে বিক্ষোভকারীরা মূল্যস্ফীতির সাথে সামঞ্জস্য রেখে পেনশন বৃদ্ধি এবং সর্বনিম্ন পেনশনকে ন্যূনতম মজুরির সমপর্যায়ে নিয়ে আসার দাবি তুলেছেন। একই সঙ্গে নারী-পুরুষের পেনশন বৈষম্য দূর করা এবং সরকারি পেনশনব্যবস্থা বেসরকারি খাতে ছেড়ে না দেওয়ার জোরালো দাবি জানান তারা।
অন্যদিকে, পর্তুগালে সাধারণ মানুষের প্রধান দাবি হয়ে উঠেছে সাশ্রয়ী মূল্যে আবাসন নিশ্চিত করা। সব মিলিয়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের উচ্চমূল্য আর জীবনযাত্রার মানের অবনতিতে কোণঠাসা ইউরোপের সাধারণ মানুষ এখন চূড়ান্ত পরিবর্তনের দাবিতে রাজপথে সোচ্চার।
অনলাইন ডেস্ক 

























