
ফ্রান্সে শিক্ষাব্যবস্থার অবনতি, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং ক্রমবর্ধমান বৈষম্যের প্রতিবাদে দ্বিতীয় দফায় দেশজুড়ে গণবিক্ষোভ করেছেন লাখো মানুষ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করে দেশটির কর্তৃপক্ষ।
বিক্ষোভকারী ও উপস্থিতি: ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, দেশজুড়ে এই বিক্ষোভে প্রায় ৪ লাখ ১০ হাজার মানুষ অংশ নেন। এর মধ্যে রাজধানী প্যারিসেই ছিলেন ১ লাখ ১০ হাজার। তবে দেশটির অন্যতম বৃহৎ শ্রমিক সংগঠন সিজিটির দাবি, প্রকৃত সংখ্যা সরকারি হিসাবের প্রায় দ্বিগুণ।
সহিংসতা ও গ্রেফতার: দিনভর বিক্ষোভ শান্তিপূর্ণ থাকলেও সন্ধ্যা নামার সঙ্গে সঙ্গে প্যারিসসহ বিভিন্ন স্থানে সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে দাঙ্গাকারীদের সংঘাতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও জলকামান ব্যবহার করে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ জানান, দেশজুড়ে প্রায় ১ হাজার মানুষকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
নিরাপত্তা বলয়: গত সপ্তাহের সহিংসতার পুনরাবৃত্তি রোধ করতে দেশজুড়ে ৭০ হাজারেরও বেশি পুলিশ ও জেনদার্মারি সদস্য মোতায়েন করা হয়। এছাড়া প্যারিসের ২৪টি মেট্রো স্টেশন, ল্যুভর মিউজিয়ামসহ গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা হয়।
সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে জরাজীর্ণ স্কুল ভবন, শিক্ষক সংকট এবং উচ্চশিক্ষায় ভর্তির বৈষম্যের প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা এই আন্দোলন শুরু করেন। পরবর্তীতে এর সঙ্গে যুক্ত হয় জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি ও প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁর নেতৃত্বের প্রতি অসন্তোষ।
গত শুক্রবার শিক্ষার্থী প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করে শিক্ষক নিয়োগ বৃদ্ধি এবং বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তির ‘পারকুরসুপ’ ব্যবস্থায় সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দেন প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁ। তবে সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপের অভাবে আন্দোলনকারীরা এই আশ্বাসে সন্তুষ্ট নন।
আগামী ছয় মাসের মধ্যে ফ্রান্সে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সংবিধান অনুযায়ী ম্যাক্রোঁ তৃতীয় মেয়াদে নির্বাচন করতে পারবেন না। এদিকে কট্টর ডানপন্থী নেত্রী মেরিন লো পেনের দল ন্যাশনাল র্যালির জাতীয় সম্মেলনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। চলমান এই সামাজিক অসন্তোষ আসন্ন নির্বাচনে বড় ধরনের রাজনৈতিক মেরুকরণ ঘটাতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
অনলাইন ডেস্ক 
























