
আজ রোববারে ব্রাজিলে অনুষ্ঠিত হচ্ছে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের অত্যন্ত কৌতূহলোদ্দীপক দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত পর্বের ভোটগ্রহণ। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের শেষ নির্বাচনী লড়াইয়ে অবতীর্ণ হয়েছেন বর্তমান বামপন্থি নেতা লুলা দা সিলভা। অন্যদিকে, কট্টর ডানপন্থি শিবিরকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট জাইর বলসোনারোর ছেলে ফ্লাভিও বলসোনারো। এই ভোটের মাধ্যমেই নির্ধারিত হবে লাতিন আমেরিকার বৃহত্তম এই দেশটির আগামী চার বছরের রাজনৈতিক ভাগ্য।
এর আগে অনুষ্ঠিত প্রথম দফার ভোটে কোনো প্রার্থীই সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ৫০ শতাংশ ভোট নিশ্চিত করতে পারেননি। তবে সে দফায় লুলার চেয়ে সামান্য ব্যবধানে এগিয়ে ছিলেন ফ্লাভিও। চূড়ান্ত জনমত জরিপগুলোও দুই প্রার্থীর মধ্যে তীব্র ও রোমাঞ্চকর লড়াইয়ের ইঙ্গিত দিচ্ছে। আগামী সপ্তাহে ৮১ বছরে পা দিতে চলা লুলার জন্য এটিই শেষ রাজনৈতিক লড়াই। প্রথম দফায় কিছুটা পিছিয়ে পড়ার পর জোরালো প্রচার ও ব্যাপক জনসমাবেশের মাধ্যমে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে বাম শিবির। প্রচারের সময় করোনাকালে জাইর বলসোনারো প্রশাসনের ভূমিকা এবং আমাজন বনাঞ্চল ধ্বংসের মতো বিষয়গুলোকে জোরালোভাবে সামনে এনেছেন তারা।
লুলা দা সিলভা: চতুর্থবারের মতো ক্ষমতায় আসতে পারলে সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি আরও বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি। একইসঙ্গে প্রচারণায় নিজেকে মার্কিন হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে একটি বড় রক্ষাকবচ বা ঢাল হিসেবে তুলে ধরেছেন এই বামপন্থি নেতা।
ফ্লাভিও বলসোনারো: ৪৫ বছর বয়সী এই প্রার্থী মূলত অপরাধ দমন, সরকারি ব্যয় সংকোচন এবং ব্রাজিলকে ‘যিশুখ্রিষ্টের হাতে’ সঁপে দেওয়ার অর্থাৎ খ্রিস্টধর্মভিত্তিক মূল্যবোধে রাষ্ট্র পরিচালনার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোটারদের মন জয় করার চেষ্টা করছেন। পরিবর্তনের এই বার্তা অনেক সাধারণ নাগরিকের মাঝে বেশ সাড়া ফেলেছে।
পরিবর্তনের আশায় মুখিয়ে থাকা ৬৭ বছর বয়সী অবসরপ্রাপ্ত কর্মী এদুয়ার্দো ভিয়ানা এএফপিকে বলেন, “এটি পরিবর্তনের প্রশ্ন। ওই পুরোনো বিষয়গুলো আর কত?” লুলার সমালোচনা করে তিনি যোগ করেন, “লুলার দাবি তিনি গরিবদের জন্য দেশ চালান, অথচ আজ সাধারণ মানুষ সুপারমার্কেটে গিয়ে ঠিকমতো বাজার করতে পারছে না।”
উল্লেখ্য, এর আগের ২০২২ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জাইর বলসোনারো পরাজিত হন। পরবর্তীতে অভ্যুত্থান চেষ্টার অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা হয় এবং বর্তমানে তিনি গৃহবন্দী অবস্থায় ২৭ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করছেন। বর্তমান নির্বাচনে ফ্লাভিও জয়ী হলে দক্ষিণ আমেরিকার রাজনীতিতে আরও একটি ডানপন্থি সরকার যুক্ত হবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
অনলাইন ডেস্ক 

























