
ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে বড় ধরনের সামরিক হামলার পূর্ণাঙ্গ পরিকল্পনা প্রস্তুত করে রেখেছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষা রয়েছে বলে ওয়াশিংটনভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দ্য হিলের একটি প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। এই পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ার তীব্র আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
প্রতিবেদন সূত্রে জানা যায়, মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের টেবিলে বর্তমানে বেশ কয়েকটি সামরিক বিকল্প প্রস্তুত রয়েছে। এখন কেবল মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গ্রিন সিগন্যালের অপেক্ষা। গত শনিবার (২৪ অক্টোবর) ডোনাল্ড ট্রাম্প এক বক্তব্যে ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, ইরানে যেকোনো সময়—এমনকি ‘আগামীকালও’ হামলা হতে পারে। তবে একই সঙ্গে তেহরানের সঙ্গে বড় কোনো চুক্তির দরজার পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়নি বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।
পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার বদলে দুই পক্ষই আরও কঠোর অবস্থানের দিকে এগোচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত প্রায় ১০ হাজার সেনা, মেরিন বাহিনীর একটি ইউনিট এবং তৃতীয় একটি বিমানবাহী রণতরী পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এর মাঝেই ইরানের সেনাবাহিনী দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দর আব্বাসের আকাশে যুক্তরাষ্ট্রের একটি ‘লুকাস’ ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি তুলেছে।
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ওয়াশিংটনের বিরুদ্ধে আলোচনার পথ বন্ধ করার অভিযোগ তুললেও কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন। তবে তেহরান কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছে, নতুন কোনো আগ্রাসন চালানো হলে তার জবাব হবে আরও মারাত্মক ও বিস্তৃত।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েল যদি ফের ইরানে সামরিক অভিযান পরিচালনা করে, তবে তা অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। তবে সর্বাত্মক সামরিক চাপ প্রয়োগ করে ইরানকে আলোচনার টেবিলে বাধ্য করা যাবে কি না, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে এখনও রয়েছে গভীর সংশয়।
অনলাইন ডেস্ক 
























