
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান রাজনৈতিক ও সামরিক অচলাবস্থা নিরসনে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ফের আলোচনায় বসার সদিচ্ছা প্রকাশ করেছে ইরান। ইসলামাবাদে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত রেজা আমিরি মোগাদ্দাম জানিয়েছেন, গত জুনে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় হওয়া অন্তর্বর্তী সমঝোতার ধারাবাহিকতায় তেহরান এখনো যেকোনো কূটনৈতিক আলোচনায় প্রস্তুত। তবে ওয়াশিংটনের বর্তমান নীতি ও কর্মকাণ্ড এই প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করছে বলে অভিযোগ করেছে দেশটি।
সম্প্রতি হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিনিময়ে মার্কিন নৌ অবরোধ প্রত্যাহারের নতুন কোনো প্রস্তাব ইরান দিয়েছে বলে গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়। তবে ইরানের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র এই দাবি পুরোপুরি নাকচ করে দিয়েছে। সূত্রটি জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার বিষয়টি কোনো নতুন শর্তের সঙ্গে যুক্ত করা হয়নি। তেহরানের আগের অবস্থান সম্পূর্ণ অপরিবর্তিত রয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পূর্বে পাঠানো সাতটি শর্ত পূরণ না হলে প্রণালির নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে কোনো পরিবর্তন আসবে না।
ইরানের স্পষ্ট বক্তব্য—যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে দেশটির বন্দর ও নৌপরিবহনের ওপর থেকে অবৈধ অবরোধ প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত এই সংকটের স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়।
এর আগে গত জুনে পাকিস্তান ও কাতারের মধ্যস্থতায় একটি অন্তর্বর্তী সমঝোতার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। যার মূল লক্ষ্য ছিল হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করা, মার্কিন নৌ অবরোধ তুলে নেওয়া এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সংক্রান্ত বৃহত্তর বিষয়গুলো নিয়ে টেবিলে বসা।
हाल हीতে (শনিবার, ২৫ অক্টোবর) ইসলাবাদের একটি সেমিনারে বক্তব্য রাখতে গিয়ে রাষ্ট্রদূত মোগাদ্দাম জানান, সাম্প্রতিক সময়ে পাকিস্তানের মাধ্যমেই ওয়াশিংটনকে ইরানের এই শক্ত অবস্থানের কথা জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। এমনকি পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের ইরান সফরের সময়ও বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছিল। তবে মার্কিন প্রশাসনের অনমনীয় মনোভাবের কারণে সেই উদ্যোগ থমকে রয়েছে।
এদিকে পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্কের মধ্যে সম্প্রতি স্বাক্ষরিত ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’ নিয়ে মন্তব্য করেছেন ইরানি রাষ্ট্রদূত। তিনি জানান, চুক্তিটি ভালোভাবে পর্যালোচনা করার পরই এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত জানাবে তেহরান। যদি এটি আঞ্চলিক শান্তি ও ঐক্য প্রতিষ্ঠার সহায়ক হয়, তবে ইরান এটিকে ইতিবাচক হিসেবেই দেখবে।
ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের হামলার প্রেক্ষাপটে স্বাক্ষরিত এই প্রতিরক্ষা চুক্তি নিয়ে তুরস্ক ইতোমধ্যে তা অনুমোদনের জন্য পার্লামেন্টে পাঠিয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট দেশগুলো স্পষ্ট করে জানিয়েছে যে, চুক্তিটি সম্পূর্ণ প্রতিরক্ষামূলক এবং এর মূল লক্ষ্য হলো সম্মিলিত প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধি করা।
অনলাইন ডেস্ক 

























