
এক বছর পূর্ণ হওয়ায় গঠনতন্ত্র অনুযায়ী রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) বর্তমান কমিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে। তবে পরবর্তী নির্বাচন আয়োজন নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও ছাত্র সংসদ নেতাদের মধ্যে মতপার্থক্য দেখা দিয়েছে। ক্যাম্পাসের সার্বিক পরিস্থিতি ও পরিবেশ বিবেচনা করে নির্বাচনের কথা ভাবছে প্রশাসন, অন্যদিকে অবিলম্বে নতুন নির্বাচন দাবি করছেন রাকসুর বর্তমান নেতারা।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদুল ইসলাম জানান, গঠনতন্ত্র অনুযায়ী এক বছর পূর্ণ হওয়ায় এই কমিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে। দীর্ঘদিন পর রাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ায় প্রশাসনও চায় এই ধারাবাহিকতা সচল থাকুক। তবে তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, ক্যাম্পাসে নির্বাচনের যথাযথ পরিবেশ তৈরি এবং সংশ্লিষ্ট সকলের সঙ্গে আলোচনার পরেই নতুন নির্বাচনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
রাকসুর ভিপি মোস্তাকুর জাহিদ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ভিসি স্যার নির্বাচন দেওয়ার কথা বললেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো কার্যকরী পদক্ষেপ নেননি। তিনি আসলেই নির্বাচনী ধারা সচল রাখতে চান কি না, তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। এছাড়া বর্তমান প্রশাসন সরকারের কোনো সবুজ সংকেতের অপেক্ষায় আছে কি না, সে প্রশ্নও তোলেন তিনি।
দীর্ঘ ৩৫ বছর বন্ধ থাকার পর গত বছরের ১৬ অক্টোবর রাকসু ও হল সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। ওই নির্বাচনে ২৩টি পদের বিপরীতে ৯টি প্যানেল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে। নির্বাচনে ছাত্রশিবির-সমর্থিত ‘সম্মিলিত শিক্ষার্থী জোট’ ভিপি ও এজিএসসহ ২০টি পদে জয়লাভ করে। এছাড়া ক্রীড়া সম্পাদক পদে ছাত্রদল সমর্থিত প্যানেলের একজন প্রার্থী জয়ী হন।
রাকসু নির্বাচন নিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা গেছে। অধিকাংশ শিক্ষার্থী মনে করেন, শিক্ষার্থীদের প্রকৃত অধিকার ও দাবি আদায়ের জন্য একটি কার্যকরী ছাত্র সংসদ অত্যন্ত জরুরি। তবে অন্য একটি অংশের মতে, রাজনৈতিক ছাত্র সংগঠনের ছত্রছায়ায় নির্বাচিত প্রতিনিধিরা অনেক সময় শিক্ষার্থীদের প্রকৃত কণ্ঠস্বর হয়ে উঠতে ব্যর্থ হন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় সাংস্কৃতিক জোটের সাবেক সভাপতি রায়হান ইসলাম মনে করেন, ক্যাম্পাসে দলীয় রাজনৈতিক কার্যক্রম সচল রেখে রাকসু নির্বাচন বা এর লক্ষ্য অর্জন বেশ চ্যালেঞ্জিং। শিক্ষার্থীদের প্রকৃত প্রত্যাশা পূরণে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাকসুর পাশাপাশি এর কাঠামোগত সংস্কার প্রয়োজন, অন্যথায় তা কাঙ্ক্ষিত সুফল বয়ে আনবে না।
অনলাইন ডেস্ক 

























