
রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে গত রাতের দীর্ঘ লড়াইয়ে তীব্র পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা ঘটেছে। দুই পক্ষের সংঘাতে উভয় মিলে অন্তত ২ জন নিহত এবং ১৫ জন আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
রুশ-নিয়ন্ত্রিত ইউক্রেনের জাপোরিঝিয়া অঞ্চলে ইউক্রেনীয় ড্রোনের আঘাতে সিমফেরোপল থেকে মস্কোগামী একটি যাত্রীবাহী বাস ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মস্কো-নিয়োজিত গভর্নর ইয়েভগেনি বালিতস্কি রুশ সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ম্যাক্সে জানিয়েছেন, ৩১ জন যাত্রী নিয়ে প্রিমোর্স্ক শহরের কাছে পৌঁছালে বাসটি হামলার শিকার হয়। এতে ঘটনাস্থলেই ১ জন নিহত হন। আহতদের দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং যাদের চিকিৎসার প্রয়োজন হয়নি, তাদের খাবার ও বাসস্থানের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
অন্যদিকে, ইউক্রেনের স্টেট ইমার্জেন্সি সার্ভিস জানিয়েছে যে রাজধানী কিয়েভে রুশ হামলায় আরও একজন নিহত এবং ১৫ জন আহত হয়েছেন।
রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইউক্রেনীয় বাহিনীর সামরিক শিল্পপ্রতিষ্ঠান, কিয়েভের পরিবহন অবকাঠামো, খারকিভ অঞ্চলের লজিস্টিক সেন্টার এবং সামরিক নৌযান লক্ষ্য করে রাতভর স্থলভিত্তিক অস্ত্র ও ড্রোনের মাধ্যমে ব্যাপক আক্রমণ চালানো হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইউক্রেন যুদ্ধের মোড় এখন বেশ জটিল। পশ্চিমা মিত্রদের দেওয়া আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ঘাটতি এবং ইউক্রেনের প্রতিরক্ষার সীমাবদ্ধতাকে কাজে লাগিয়ে মস্কো তাদের হামলার পরিধি ব্যাপকভাবে বাড়িয়েছে। বিশেষ করে ইউক্রেন তাদের অস্ত্র উৎপাদন ও ড্রোন সংযোজন কেন্দ্রগুলোকে ছোট শিল্পকারখানা এবং বেসামরিক গুদামে ছড়িয়ে দেওয়ায় রাশিয়া এখন যেকোনো বাণিজ্যিক বা শিল্প স্থাপনাকেই সামরিক লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচনা করছে।
একইভাবে, কেন্দ্রীয় অস্ত্রাগারের পরিবর্তে ইউক্রেন এখন দেশের বিভিন্ন বেসামরিক ও বাণিজ্যিক স্থাপনায় অস্ত্র এবং পশ্চিমা ক্ষেপণাস্ত্র সংরক্ষণ করছে। এর ফলে রুশ ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে সৃষ্ট ভয়াবহ বিস্ফোরণগুলো অনেক সময় আশপাশের আবাসিক এলাকার জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করছে।
অনলাইন ডেস্ক 

























