
রাজধানীর অভিজাত এলাকা গুলশান-২ নম্বর গোলচত্বরের দক্ষিণ পাশে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে রয়েছে একটি সুউচ্চ ভবন। ২৪ তলা ভবন নির্মাণের অনুমতি নিয়ে ক্ষমতার অপব্যবহার করে ৩৪ তলা পর্যন্ত নির্মাণ করা হয়েছে এই ভবনটি, যেখানে চালুর কথা রয়েছে বিশ্বখ্যাত ফ্ল্যাগশিপ ব্র্যান্ডের হিলটন হোটেল অ্যান্ড রিসোর্ট সেন্টার।
রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) সূত্রে জানা যায়, ২০১৩ সালের ১৬ জুন প্রথমে পাঁচটি বেজমেন্টসহ ১৫ তলা এবং পরবর্তীতে ২০১৬ সালের ১৮ এপ্রিল তা সংশোধন করে ছয়টি বেজমেন্টসহ ২৪ তলা ভবন নির্মাণের অনুমোদন দেওয়া হয়। কিন্তু নিয়মনীতি উপেক্ষা করে ভবনের মালিক ডা. এইচ বি এম ইকবাল—যিনি প্রিমিয়ার ব্যাংক পিএলসির সাবেক চেয়ারম্যান ও সাবেক সংসদ সদস্য—২৪ তলার পরিবর্তে ৩৪ তলা ভবন নির্মাণ করেন। এ ছাড়া বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) নিয়ম অনুযায়ী ওই এলাকায় সর্বোচ্চ ২১০ ফুট উঁচুর অনুমোদন থাকলেও, বর্তমানে ভবনটির উচ্চতা ৩৪০ থেকে ৩৫০ ফুট পর্যন্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে বেবিচক। অতিরিক্ত এই অংশ ভেঙে ফেলতে এরই মধ্যে নোটিশও পাঠানো হয়েছে।
ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে ইমারত নির্মাণ আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে ২০১৬ সালে রাজউকের পক্ষ থেকে একাধিকবার কারণ দর্শানো ও চূড়ান্ত নোটিশ দেওয়া হয়। তবে এসব নোটিশ উপেক্ষা করে কাজ চালিয়ে যাওয়া হয় এবং পরবর্তীতে রাজউকের নোটিশকে চ্যালেঞ্জ করে উচ্চ আদালতে রিট করেন ভবন মালিক।
বর্তমান পরিস্থিতি ও অর্থায়ন বিতর্ক
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে ভবনটির নির্মাণকাজ সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। বর্তমানে এর প্রায় ৯৫ শতাংশ কাজ শেষ হলেও অভ্যন্তরীণ সাজসজ্জার কাজ বাকি রয়েছে এবং এটি পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। এ ছাড়া ভবনটির নির্মাণ ব্যয় ও অর্থায়ন নিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) অনুসন্ধান এবং মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া শুরু করেছে। তবে প্রিমিয়ার ব্যাংকের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে, হিলটন হোটেলের নামে ব্যাংক থেকে কোনো ঋণ নেওয়া হয়নি।
অনলাইন ডেস্ক 























